এডিটার'স মেইলবক্স: ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিতণ্ডা, ৯/১১-র ২০ বছর আর হিন্দু আইন নিয়ে কথা

  • সাবির মুস্তাফা
  • সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
লিওনেল মেসি, ০৫/০৯/২০২১

ছবির উৎস, NELSON ALMEIDA

ছবির ক্যাপশান,

হতাশ মেসি - খেলা ভণ্ডুল হবার আগেই এই চিত্র!

এবার একটি ফুটবল ম্যাচ নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়ে গেল। খেলার কোন দিক নিয়ে নয়, বরং খেলাটা হলই না কেন, তা নিয়ে।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার খেলা শুরু না হতেই স্থগিত করা হল। ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ দাবী করলো, আর্জেন্টিনার কয়েকটি খেলোয়াড় ব্রিটেন থেকে এসে কোয়ারান্টিন নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা যখন কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হন আমাদের মতো সমর্থকদের মাঝে এক অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে। গত সোমবারে ব্রাজিলের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড আমাদেরকে রীতিমতো অবাক ও হতাশ করেছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হয়েছে। হোটেলে থাকতে দেওয়া হয়েছে।

''মাঠে অনুশীলন করতে দেওয়া হয়েছে। খেলা শুরু হয়েছে। এতকিছু করার পর কেনো এমন বিশ্রী ঘটনা ঘটতে দেয়া হলো। এটাকে নিছক বিচ্ছিন্ন বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এর দায় এরাতে পারে না।''

ছবির উৎস, Gustavo Pagano

ছবির ক্যাপশান,

খেলা স্থগিত হবার পর ব্রাজিলের কোচ টিটে লিওনেল মেসির সাথে আলাপ করছেন।

এখানে সমস্যা হচ্ছে, দায়টা কি আসলে ব্রাজিলের না কি আর্জেন্টিনার। ঐ চার জন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় ইংল্যান্ড থেকে ব্রাজিল গেছে। ব্রাজিলের নিয়ম অনুযায়ী ইংল্যান্ড থেকে কেউ আসলে ১৪ দিন কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে। ব্রাজিল কর্তৃপক্ষর অভিযোগ, তারা সেটা করেনি, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছে।

সেকারণে ঐ চারজনকে ব্রাজিল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে দায়-দায়িত্ব পুরোপুরি আর্জেন্টিনার ঘারে পড়বে। যাই হোক, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, তদন্ত শেষ হলেই বোঝা যাবে কে দোষী।

ছবির উৎস, Gary Hershorn

ছবির ক্যাপশান,

নিউ ইয়র্ক: ৯/১১ স্মরণে আলো দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রতি বছর।

৯/১১-র রূপকারের বিচার হয় না কেন?

সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখ নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটনে হামলার ২০তম বার্ষিকী পালন করা হবে। এই হামলায়, যেটা ৯/১১ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত, তিন হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যানএবং তার জন্য সৌদি নাগরিক ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদাকে দায়ী করা হয়।

কিন্তু এই হামলার রূপকার খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার কেন হয় নি, সেই আলোচনা দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

''যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারের ওপর হামলার সাথে যার নাম সবচেয়ে বেশি জড়িত, সেই ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের আবোটাবাদে আমেরিকা হত্যা করেছিল। কিন্তু বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানলাম এই হামলার ব্যাপারে আমেরিকা খালিদ শেখ মোহাম্মদকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করে

''তিনি ২০ বছর ধরে আমেরিকার কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে আটক আছেন। যদি তাই হয়, তবে তার বিচারের ক্ষেত্রে আমেরিকা এত বিলম্ব করছে কেন? নাকি এ হামলার বিষয়ে কোন গোপন রহস্য রয়েছে যা ফাঁস হয়ে গেলে আমেরিকা খুব বিব্রত অবস্থায় পড়তে পারে, এই ভয়ে এর বিচার করছে না?''

ছবির উৎস, Chip Somodevilla

ছবির ক্যাপশান,

গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধর দাবীতে ওয়াইট হাউসের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ।

বিচার না হবার পেছনে কোন রহস্য বা ষড়যন্ত্র আছে বলে আমার মনে হয় না, মিঃ হক, কারণ গুয়ান্তানামো বে কারাগারের বেশির ভাগ বন্দীকেই বিচারের জন্য অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এক সময় সেখানে ৭৮০ জন বন্দী ছিল, কিন্তু বর্তমানে ৪০ জনেরও কম। এই কারাগার আমেরিকার ভূখণ্ডের অংশ না, এখানে মার্কিন সংবিধান কার্যকর না।

এর ফলে, এই কারাগারে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটক রাখা যায় কারণ মার্কিন আইন এখানে কার্যকর না। হয়তো তথ্য সংগ্রহ করার জন্যই তাদেরকে আটক করা হয়েছে, বিচারের জন্য নয়। এই তথ্য ব্যবহার করে তারা সারা বিশ্বে আল-কায়েদা এবং মিত্র সংগঠনগুলোকে নির্মূল করার অভিযান চালাতে পারে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, জে কে রায়

ছবির ক্যাপশান,

হিন্দু আইনে সংস্কারের দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ।

হিন্দু পারিবারিক আইনের কি সংস্কার প্রয়োজন?

সম্প্রতি বাংলাদেশে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের একটি সংগঠন হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কার করার আহ্বান জানিয়েছে, যার বিরোধিতা করছে হিন্দুদের পুরনো একটি সংগঠন। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''এই আইন সংস্কারের প্রশ্নে হিন্দু নেতৃত্ব কার্যত দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রচলিত আইনে হিন্দু নারীদের পিতা এবং স্বামীর সম্পত্তির উপর অধিকার নেই বললেই চলে। একই পিতার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও কন্যা সন্তানের পিতার সম্পত্তিতে কেন অধিকার থাকবে না?

''হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুরানো একটি সংগঠন আইন সংস্কারে যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে তা মোটেই যৌক্তিক নয়। পিতা মাতার সম্পত্তিতে পুত্র এবং কন্যা উভয়ের সমান অধিকার থাকা উচিৎ বলেই আমি মনে করি।''

বাংলাদেশের সংবিধানে সমান অধিকারের কথা বলা আছে, কিন্তু বিভিন্ন সময় দেখা যায় ধর্মীয় কারণে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয় না। বিশেষ করে পারিবারিক আইনে ধর্মীয় অনুশাসনকে প্রাধান্য দেয়া হয় বলে, হিন্দু নারীরা যেমন পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে মুসলিম নারীরাও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

হিন্দু নেতৃত্ব বিভক্ত, সেই অজুহাতে সরকারও সংস্কারের জন্য কোন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন তার বেশ অভাব আছে।

ছবির উৎস, Allison Joyce

ছবির ক্যাপশান,

রোহিঙ্গা মা ও শিশু: আর কত দিন তারা উদ্বাস্তু হয়ে থাকবে?

রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান কী?

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন চলতি সপ্তাহে লন্ডনে এসেছিলেন। এই সুযোগে বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:

''বিবিসি কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যর্থতা স্বীকার করেন । চার বছরে এক জন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে পাঠানো যায় নি । অন্যদিকে, বিশাল এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশের পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবার, অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে, নারী পাচারের মতো কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের সন্তানরা শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । এভাবে ক্যাম্পে বছর বছর রেখে দিলে, এক সময়ে শরণার্থীদের নেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ সরকারের কোন উপায় নেই।''

সেরকম আশঙ্কা অনেকেই করছেন মিঃ ইসলাম। তবে এটাও সত্য যে, মর্যাদার সাথে জীবন যাপন করার যে অধিকার রোহিঙ্গাদের আছে, সেটা তারা নিজ দেশে না পেলে অন্য কোন দেশে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোন পথ থাকবে না। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে কোন ভাবেই বাধ্য করা যাচ্ছে না, বা বাধ্য করার জন্য যে ধরণের চাপ প্রয়োগ করা দরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সে চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গাদের মনে হচ্ছে ফুটবলের মত ব্যবহার করা হচ্ছে - সবাই বলটা অন্যের কাছে পাস করে দিতে চায়।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর:

ছবির উৎস, Jenny On The Moon

ছবির ক্যাপশান,

নারী ও মিডিয়া: সব প্লাটফর্মে নারী অংশগ্রহণ পুরুষদের সমান করা বিবিসির লক্ষ্য

নারী হলে সমস্যা কোথায়?

এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে দু'একটি চিঠি। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল: 

''গত দুই প্রীতিভাজনেসুতে বিবিসি বাংলায় নারী শ্রোতাদের অংশগ্রহণ ও তাদের অংশ নিয়ে কিছু শ্রোতার বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে লেখা একজন নিয়মিত পত্রলেখকের মেইল শুনলাম। এই মেইলের জবাবে সম্পাদক বললেন, বিবিসি বাংলা চায় শ্রোতা সংখ্যার অন্তত ৪৮ শতাংশ যেন নারী হয়। আমার প্রশ্ন হলো ৪৮ শতাংশ কেন? আর ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ক্ষতি কি?''

কোন ক্ষতি নেই মিঃ শামীম উদ্দিন। সেজন্য বলা হচ্ছে অন্তত ৪৮ শতাংশ। সব চেয়ে ভাল হয় নারী-পুরুষ যদি সমান সমান হত। কিন্তু সেটা সম্ভব না হলে অন্তত ৪৮ শতাংশ নারী বিবিসির লক্ষ্য।

ছবির উৎস, Alessandro Biascioli

ছবির ক্যাপশান,

সোশাল মিডিয়ার খবর রেডিওতে প্রচারের কারণেই কি শ্রোতা সংখ্যা কমছে?

সোশাল মিডিয়া দায়ী?

বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠানের শ্রোতা সংখ্যা কমার পেছনে ফোন-ইন এবং সোশাল মিডিয়ার খবরকে দোষারোপ করে লিখেছেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে মোহাম্মদ সাগর মিয়া:

''বিবিসি বাংলার খবরে ফোন-ইন আর সোশাল ট্রেন্ডিং প্রচার শ্রোতা সন্তুষ্টি কতটুকু বাড়াতে পেরেছে জানা নেই। তবে আমার মনে হয় আধা ঘণ্টা সময়ের অর্ধেক অপচয় হচ্ছে এর পেছনে। আর এভাবে শ্রোতা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তখন বিবিসি বলবে রেডিওতে খবর তেমন কেউ শোনে না, তাই সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। মূলত সমস্যাটা কার? যা ইচ্ছে প্রোগ্রাম করবে, শোনার লোক থাকবে না আর দোষ হবে শ্রোতার?''

বিবিসি তো কখনো শ্রোতাকে দোষারোপ করে নি মিঃ সাগর মিয়া। আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, গত ১৫-২০ বছর ধরে রেডিও শ্রোতা কমে যাচ্ছে, এবং সেটা সারা বিশ্বেই হচ্ছে। এখানে কারো দোষ নেই - প্রযুক্তি পাল্টাচ্ছে, মানুষের জীবনধারণ পাল্টাচ্ছে, তাদের মিডিয়া ব্যবহারও পাল্টাচ্ছে। যেটা হবার, সেটাই হচ্ছে।

আমরা ফোন-ইন, সোশাল মিডিয়ার খবর ইত্যাদি দিয়ে রেডিও অনুষ্ঠানকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করেছি মাত্র - এবং এ'পর্যন্ত আমারা যা ফিডব্যাক পেয়েছি, তা দেখে এই দুটো অনুষ্ঠানকে বেশ জনপ্রিয়ই বলতে হবে।

ছবির ক্যাপশান,

পরীমনির সাক্ষাতকার কি বিবিসিতে শোনা যাবে?

পরীমনির সাক্ষাৎকার নেই কেন?

যাই হোক, ফোন-ইন প্রসঙ্গ থেকে যাই সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে। লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:

''বিবিসি বাংলার এ সপ্তাহের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠানটি নি:সন্দেহে একটি জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে যে সকল অতিথির সাক্ষাতকার প্রচার করা হয়, সে সব অতিথি বাছাইয়ের মানদণ্ড বা সম্পাদকীয় নীতিমালাটা কী? গত কিছু দিনের প্রচারিত কয়েকটি সাক্ষাতকার পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে,বিবিসি বাংলা একটি নারী বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে নারীদের সংগ্রাম সফলতার গল্প প্রচারেই একটু বেশি অগ্রাধিকার দেয়। যদি তাই হয় তাহলে এতদিনে এই তালিকায় চিত্রনায়িকা পরীমনির নাম সংযুক্ত হলো না কেন?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ আলী। আমাদের চলমান সাক্ষাৎকার সিরিজে অপেক্ষাকৃত তরুণ অতিথি আনা হচ্ছে, যারা বিভিন্ন খাতে সফল উদ্যোগ নিয়েছেন। সে বিচারে পরীমনির সাক্ষাৎকার অবশ্যই নেয়া উচিত। আমাদের চেষ্টারও অভাব নেই।

তবে আমরা বুঝি এই সময়ে তিনি নানা ঝামেলার মধ্যে আছেন এবং আইনগত জটিলতার কারণেও হয়তো সাক্ষাৎকার দেয়া সম্ভব না। জটিলতা যখন কাটবে তখন আমরা অবশ্যই তার সাক্ষাৎকার প্রচার করার আশা রাখছি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির ক্যাপশান,

বিবিসির ঢাকা অফিসে এসেছিলেন অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন

আজমেরী হক বাঁধন ও নারী

সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গেই থাকছি, কারণ একজনের সাক্ষাৎকারের সূত্র ধরে নারীদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে সাদিয়া আফরিন মিতু:  

''গত ৭ই সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলা'র পরিক্রমা অধিবেশনে অভিনয় শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন-এর সাক্ষাৎকারটি আমার অসম্ভব রকমের ভালো লেগেছে। নারীদের নিয়ে অকপটে এত অপ্রিয় সত্য কথাগুলো বলার জন্য বাঁধন আপাকে আমার স্পেশাল "ধন্যবাদ"।

''আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে যদি বলি- আসলেই তো,আমাদের নারীদের চলার পথে এই একুশ শতকে এসেও পদে পদে বাঁধা। এখনও আমরা নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পাঠ্যপুস্তক, সিনেমা ও দৈনন্দিন কর্মে অসংখ্য রকমের অবমাননাকর শব্দের শিকার হই। সামাজিকীকরণের মাধ্যমে নারীদের একটা গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হয়।

''পুরুষদের নিপীড়ক হিসেবে ভাবতে চাই না। তাতে পুরুষেরও অমর্যাদা হয়। নারী যদি পুরুষের দ্বারা নিপীড়িত হওয়ার ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, তাহলে পুরুষের অবস্থানও নিচে নেমে যেতে বাধ্য বলেই আমার মনে হয়। তাই পুরুষের মানসিকতার পরিবর্তনও খুব জরুরি। পুরুষ নিজেরা যখন বুঝতে শিখবে- এ ধরনের আচরণ দ্বারা তারা নিজেই নিজের অবমূল্যায়ন করছে, ঠিক তখন নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস আফরিন। সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারী অধিকর নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি নারীদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য পুরুষদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারীরা কেন পুরুষের ভয়ে নিজেদের গুটিয়ে রাখবে? পুরুষদেরই নিজেদের ব্যবহার সংশোধন করতে হবে।

ছবির উৎস, Mukhtar zahoor

ছবির ক্যাপশান,

কাশ্মীরে সরকারি সৈন্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে প্রায়শই মারা যাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাকামীরা

কাশ্মীরি, উইঘুর, রোহিঙ্গা একই কাতারে?

পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরের বেনুঘাট দিঘির পাড় থেকে সেলিম রাজ:

''কাশ্মীরের জনগণের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি উইঘুরের নির্যাতিত মুসলিমদেরপাশেও দাঁড়াতে হবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিষয়েও সকলের সোচ্চার হওয়া উচিত।মানুষ যে ধর্মেরই হোক না কেনো, যারা নির্যাতিত তাদের পক্ষে সোচ্চার হওয়া প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের কর্তব্য।''

আপনার সাথে অনেকেই একমত হবেন মিঃ রাজ, যে নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো উচিত। অনেক সময় দেখা যায় যে, ক্ষুদ্র কোন জনগোষ্ঠী নিজ দেশে বৈষম্যের কারণে বা ভূরাজনীতির মারপ্যাঁচে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আপনি যে কাশ্মীরি, উইঘুর আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা বলেছেন, তাদের ভাগ্য মনে হয় আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাছে জিম্মি।

ছবির উৎস, Oscar Wong

ছবির ক্যাপশান,

মোবাইল ডেটার ব্যবহার নিয়ে রিপোর্ট কবে আসবে?

মোবাইল ব্যবহারের খরচ

মোবাইল ফোন নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ৬ই সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে একটা খবর দেখলাম। মন্ত্রীর নির্দেশের পর মোবাইল কোম্পানিগুলো নাকি অব্যবহৃত ডাটা গ্রাহকদের ফেরত দিতে শুরু করেছে! কিন্তু একজন ভোক্তা হিসেবে আমার অভিযোগ, কই আমি নিজেই তো তা পাইনি? এ বিষয়ে যেহেতু কমিটি করা হয়েছে সুতরাং এটা নিয়ে আর আমাদের না ভাবলেও চলবে। এই কমিটির রিপোর্ট আসতে আসতে পরবর্তী প্রজন্ম চলে আসবে, আমাদের তখন ফোন ব্যবহার করার মত চোখের শক্তি আর থাকবে না হয়তো।''

অনেক দেশেই দেখা যায়, মোবাইল ফোনের ডেটা প্ল্যান-এর সময় সীমা থাকে। তবে যখন খুচরা ডেটা কেনা হয়, তখন কোন সময়সীমা থাকে বলে আমার জানা নেই। তাছাড়া বাংলাদেশে ডেটার দাম বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের চাইতে বেশি, তাই সব দেশের সাথে তুলনা করাও ঠিক হবে না। এই বিষয়গুলি দেখার জন্যই বিটিআরসি গঠন করা হয়েছিল।

তরুণদের জন্য শুধু ফাইজার আর মডের্না কেন?

পরের চিঠি লিখেছেন ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গী থেকে রিপন চন্দ্র সিংহ:

''ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং সকলের কাছে খুশির খবর যে,আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। সরকার আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ১২ - ১৮ বছরের শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, এসব শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার বায়োনটেক এবং মডের্নার টিকা দেয়া হতে পারে। আমার প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট করে এ দুটি টিকাই দেয়া হবে কেন? অন‍্য গুলো নয় কেন?''

স্বাস্থ্য মন্ত্রী এ'কথা বলেছেন, সেটা কিন্তু আমার জানা ছিল না মিঃ সিংহ। বিবিসি বাংলার রিপোর্টে এ'ধরনের কোন কথা আমি দেখি নি। তবে যদি ধরেও নেই তিনি বলেছেন, তাহলে তার পেছনে নিশ্চয়ই কোন যুক্তি আছে।

ইউরোপের বেশ কিছু দেশে ৪০ বছরের নীচে যাদের বয়স, তাদের আ্যস্ট্রজেনেকা টিকা দেয়া বন্ধ করা হয়েছিল। বলা হচ্ছিল, এই টিকা অল্প বয়স্কদের ক্ষেত্রে তুলনামুলক ভাবে বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। হয়তো সেজন্যই বাংলাদেশ সরকার চাইছে কিশোরদের ফাইজার বা মডের্নার টিকা দিতে।

সব শেষে, আমাদের একটি রিপোর্ট নিয়ে লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:

''বিবিসিকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাতে হয়। পাউ রুটি সম্পর্কে অনেক কিছু যানা হলো। কিন্তু গ্রামগুলোতে দেখা যায় পাউ রুটি মানুষের খুব পছন্দের খাবার। তাহলে আমরা শিশুদের আর খাওয়াবো না।''

রিপোর্টটি আসলেই উদ্বেগজনক মিঃ রাজ। তবে আশা করা যায়, বিষয়টি যেহেতু কর্তৃপক্ষর নজরে আছে, হয়তো বেকারি গুলো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ করবে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

আফিয়া খানম জুলী, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ

মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, উত্তর আগ্রাবাদ,চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ রুহুল আমিন, বেল আমলা, জয়পুরহাট।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

মোহাম্মদশিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি,খুলনার।

শহীদুল ইসলাম, তালগাছিয়া,ঝালকাঠি ।

মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।

মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপী, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।