সাপ দিয়ে হত্যা: কেরালায় স্ত্রীর গায়ে কেউটে লেলিয়ে হত্যার মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

সুরাজ কুমার এবং স্ত্রী উথরা বিয়ের সময়
ছবির ক্যাপশান,

সুরাজ কুমারকে (মাঝখানে) স্ত্রীর ওপর কেউটে সাপ লেলিয়ে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত

দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যের একটি আদালত কেউটে সাপ দিয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।

আদালত তাকে বিরল জোড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। বিচারক মন্তব্য করেছেন এ ধরনের মামলা খুবই বিরল।

সরকারি আইনজীবীরা জানিয়েছেন দণ্ডপ্রাপ্ত সুরাজ কুমার সাপুড়েদের কাছ থেকে একটি সাপ কিনে সেটি ঘুমন্ত স্ত্রীর ওপর লেলিয়ে দেন।

ঘটনাটি ঘটে কেরালার কোল্লাম জেলায়। সুরাজ কুমারের স্ত্রী উথরা সাপের কামড়ে মারা যাবার পর গত বছর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images

প্রথমবার সাপ দিয়ে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ

উথরার পরিবার অভিযোগ করে যে সুরাজ যৌতুকের জন্য উথরার ওপর চাপ দিত এবং তারা উথরাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

ঘুমন্ত উথরার গায়ে কেউটে সাপ ছেড়ে দিয়ে তাকে হত্যা করার দায়ে সোমবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয় সুরাজ কুমার। ২৫ বছর বয়সী উথরাকে গত বছর মে মাসে তার বিছানায় মৃত পাওয়া যায়।

উথরার পরিবার তার মৃত্যুর নিয়ে সন্দিগ্ধ হয় কারণ তার কয়েক মাস আগে আরও একবার সাপের কামড় খেয়েছিলেন উথরা। তদন্তকারীরা বলছেন সেবারও সুরাজ কুমারই সেই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন।

পুলিশ আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে যে সাপ যোগড় করতে সুরাজকে সাহায্য করেছিল। পরে আটক ব্যক্তির সহায়তায় পুলিশ তদন্তের কিনারা করে।

দ্বিতীয়বার সাপে কাটার ঘটনার সময় সুরাজের স্ত্রী প্রথমবারের সাপের কামড় খাওয়া থেকে সেরে উঠছিলেন। প্রথমবার প্রাণে বেঁচে গেলেও দ্বিতীয়বার কেউটের দংশনে তিনি মারা যান।

বিবিসি বাংলার আরও খবর:

ছবির উৎস, Kaviyoor Santhosh

ছবির ক্যাপশান,

সাপ লেলিয়ে স্ত্রীকে খুনের দায়ে সোমবার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন সুরাজ কুমার

'বিরল মামলাগুলোর মধ্যেও অতি বিরল'

ভারতের একট আইনি ওয়েবসাইটের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে পুলিশের এক হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগনামায় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে সুরাজ কুমার কীভাবে গোটা ষড়যন্ত্রের ছক কাটেন এবং তা বাস্তবায়ন করেন।

সরকারি কৌঁসুলিরা যুক্তি দিয়েছিলেন এটা "বিরল মামলাগুলোর মধ্যেও অতি বিরল" এবং অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডে চেয়ে সরকারি আইনজীবীরা মামলা করেন।

বিচারক বলেন এই মামলা খুবই বিরল এবং তিনি অভিযুক্তকে দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যাতে বাকি জীবন তাকে কারাভোগ করতে হয়। এছাড়াও সুরাজকে পাঁচ লক্ষ রুপি জরিমানা করেছে আদালত।

তবে সুরাজের মৃত্যুদণ্ড না হওয়ায় নিহত ঐ নারীর পরিবার বলেছে তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নয়।