ইরাক আক্রমণে গোপন সমঝোতা ছিলনা : টোনি ব্লেয়ার

টোনি ব্লেয়ার
Image caption ইরাক অভিযান নিয়ে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ায় আমি দুঃখিত : টোনি ব্লেয়ার

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টোনি ব্লেয়ার ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানের বৈধতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেছেন৻ ইরাক যুদ্ধের বিষয়ে ব্রিটেনে চলতি তদন্তের শুনানিতে হাজির হয়ে মি. ব্লেয়ার এই যুদ্ধের পক্ষে তৎকালীন এটর্নি জেনারেলের মতামত প্রভাবিত করার খবর অস্বীকার করেছেন৻ ব্রিটেনকে ইরাক যুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মি. ব্লেয়ার এই প্রথম প্রকাশ্যে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন৻ ‌

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

টোনি ব্লেয়ার বলেছেন, আল কায়দার সঙ্গে ইরাকের সম্পর্ক থাকার মার্কিন দাবীর সঙ্গে তিনি একমত নন৻ তবে তাঁর আশংকা ছিল, কোন এক পর্যায়ে এই দুটো হুমকি এক হয়ে যেতে পারে৻ তাঁর দাবী, এগারোই সেপ্টেম্বরের হামলার পর পরমাণু এবং রাসায়নিক অস্ত্রের বিস্তারের হুমকি নতুন একটা মাত্রা পেয়েছিল৻ এই অবস্থায় ইরাকের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে ঝুঁকি নেবার কোন অবকাশ ছিলনা৻ সাদ্দাম হোসেন তাঁর নিজের দেশের মানুষের ওপরই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন৻ মি. ব্লেয়ার বলছেন, এমন কোন রাষ্ট্র যখন পারমানবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রের অধিকারী হয় এবং তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লালন করে, তখন তা অনেক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়৻

বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা ইয়েন ওয়াটসন বলছেন, মি. টোনি ব্লেয়ার কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, গোয়েন্দা তথ্য আরো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করার সুযোগ ছিল৻ তিনি স্বীকার করেছেন, ইরাক ৪৫ মিনিটের মধ্যে গণবিধ্বংসী মারনাস্ত্রের হামলা চালাতে পারে বলে যে দাবী তিনি সেসময় করেছিলেন, তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল এবং সে সময় এই বিভ্রান্তি দূর করা হলে ভালো হতো৻ এই ব্ক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরাকে নিহত একজন ব্রিটিশ সেনার বাবা জন মিলার৻ তিনি বলছেন, মি. ব্লেয়ার বারবার বলেছেন, তিনি মাত্র একবার এই ৪৫ মিনিটের কথা বলেছিলেন এবং আরো নানা যুক্তি দেখাচ্ছেন৻ কিন্তু এই ভুলটা তখন সংশোধন করার কোন চেষ্টাই করা হয়নি৻

মি. ব্লেয়ার এক্ষেত্রে আগের তদন্ত প্রতিবেদনগুলোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সরকার জেনেশুনে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেনি৻ তিনি জোর গলায় দাবী করেন যে, গোয়েন্দা বিভাগগুলো সে সময় যে তথ্য উপস্থাপন করেছিল, তার ভিত্তি অন্য কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ারি অবকাশ ছিলনা৻ তবে বিবিসির জেমস রবিনস বলছেন, পরমাণু বা রাসায়নিক অস্ত্র না থাকলেও সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করার সিদ্ধান্ত সঠিত হতো বলে এর আগে মি. ব্লেয়ার বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে যে দাবী করেছিলেন, আজকের শুনানীতে তার থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছেন৻

২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট বুশের খামার বাড়ীতে তাঁদের যে আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে মি. ব্লেয়ার কোন গোপনীয়তার আশ্রয় নেননি বলে দাবী করেছেন৻ তিনি বলছেন সাদ্দাম হোসেনের হুমকি মোকাবেলার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেছেন এবং কোন পন্থায় তা করা হবে সেব্যাপারে তখনও চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি৻ তাঁদের সিদ্ধান্ত ছিল ইরাকের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের হুমকি নির্মুল করতে হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন হলে সাদ্দাম হোসেনকেই উৎখাত করা হবে৻ তবে এখানে বলে রাখা ভালো যে, এই শুনানীতে আগে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ দাবী করেছেন যে, মি. ব্লেয়ার এই বৈঠকে, ইরাকে সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করার কথা জানিয়েছিলেন৻

মি. টোনি ব্লেয়ার জোর গলায় বলছেন সে সময় তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে ইরাকের গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের মজুদ ছিল এবং ইরাক অভিযানে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল৻ বাগদাদের একজন বাসিন্দা, পেশায় আইনজীবী ইয়াসিম আল হামাশ, মি. ব্লেয়ারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, তাঁর ভাষায়, প্রত্যেক ইরাকীর উচিত টোনি ব্লেয়ারের বিচার দাবী করা৻ তাঁর দাবী মি. ব্লেয়ার একজন খুনি, বহু ইরাকীকে হত্যা করেছেন তিনি৻

ইরাক অভিযানের আগে জাতিসংঘের অনুমোদন নেবার ব্যাপারে মি. ব্লেয়ার বলেছেন, চৌদ্দশ একচল্লিশ নম্বর প্রস্তাবটি যথেষ্ট কঠোর হলেও, তাতে কিছু অমিমাংসিত বিষয় ছিল৻ কয়েকটি সদস্য দেশ সামরিক অভিযান শুরুর আগে আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন করিয়ে নেবার ওপর জোর দিচ্ছিল৻ মি. ব্লেয়ার বলছেন, তিনি সেটা জরুরী মনে করেননি, তবে তাঁর মতে, এমন আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদিত হলে রাজনৈতিকভাবে তা সুবিধাজনক হোত৻ এই ব্যাখ্যার সমালোচনা করে লিবাৠাল ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক প্রধান স্যার মেনজিস ক্যাম্পবেল বলেছেন, মি. ব্লেয়ার স্ববিরোধী অবস্থান নিচ্ছেন৻ তাঁর ভাষায়, জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণের নীতিমালাকে ব্যবহার করা হয়েছে, ইরাক যুদ্ধকে বৈধতা দিতে৻ আবার এটা করতে গিয়ে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোন দেশের সরকারকে উৎখাত করার ব্যাপারে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভাঙ্গা হয়েছে৻