অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা

জি-৭ এর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক
Image caption জি-৭ এর অর্থমন্ত্রীদের কানাডা বৈঠক

বিশ্বে অর্থনৈতিক পুণরুজ্জীবন প্রক্রিয়া যাতে হোঁচট না খায় তা নিশ্চিত করতে কানাডায় এক বৈঠকে বসেছেন শিল্পোন্নত সাতটি দেশের গোষ্ঠী জি-সেভেন-এর অর্থমন্ত্রীরা৻

যে সংকটরে কারণে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ার মতো অবস্থায় গিয়ে পৌছেছিল, পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া তা কতটা সামলে নিতে পেরেছে অর্থমন্ত্রীরা তাও মূল্যায়ন করবেন৻

ইউরোপের অর্থনীতির অবস্থাও তাদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে৻

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে জি-সেভেন জোটভুক্ত মন্ত্রীদের অনেক কিছুই আলোচনা করার আছে৻

ব্যাঙ্কগুলোকে আর্থিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার করার খরচ উঠিয়ে নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসন নতুন লেভি বসানোর পরিকল্পনা করছে, তাদের কর্মকান্ডেও নানা বিধিনিষেধ বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে যাতে ঝুঁকিটা কমানো যায়৻

এরই মধ্যে পর্দার আড়ালে আর্থিক খাতের কর্মকর্তারা এই চেষ্টাও চালাচ্ছেন – যাতে আর্থিক সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আরও বেশি পরিমাণ পুঁজি ধরে রাখাটা বাধ্যতামূলক করা যায়৻

এছাড়াও জি-সাত অর্থমন্ত্রীদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে ইউরোজোনের সমস্যা – যেখানে গ্রীস, স্পেন ও পর্তুগালের অর্থনীতি তীব্র সঙ্কটের সম্মুখীন৻

আয়োজক দেশ কানাডার অর্থমন্ত্রী জিম ফ্ল্যাহার্টি জানিয়েছেন, সাধারণ লগ্নিকারীদের ওপর ব্যাঙ্কিং খাতের বিপর্যয় কি ধরনের প্রভাব ফেলেছিল সেটাও যে ভুলে যাওয়া উচিত নয় তা নিয়ে সাধারণ ঐকমত্য হয়েছে৻

তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো সিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোর ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের যে কিছুটা সুরক্ষা থাকা দরকার, সে ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন৻

তাঁর বক্তব্য - সৌভাগ্যবশত কানাডায় কঠোর বিধিনিষেধ ও জোরালো ব্যাঙ্কিং খাতের সুবাদে সেরকম কিছু ঘটেনি৻

কিন্তু যে-সব প্রতিষ্ঠান ভেবে নেয় যে বিপদে পড়লে আন্তর্জাতিকভাবে করদাতাদের অর্থে তারা উদ্ধার পেয়ে যাবে, সেটা কিন্তু একটা নৈতিক সমস্যার দিক – এবং কানাডা নিশ্চিত যে এ ব্যাপারে একটা অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে পৌঁছতে বৈঠকে চেষ্টা হবে৻

বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন দেশের সরকার যে ঢালাওভাবে খরচ করার কর্মসূচী ও কম সুদ বহাল রাখার নীতি নিয়েছে, তা কখন থেকে আবার বন্ধ করা উচিত সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েও অর্থমন্ত্রীদের আলোচনা করতে হবে৻

বেশিরভাগ অর্থনীতিতেই আবার প্রবৃদ্ধি ঘটছে, তবে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া যে ভঙ্গুর সেই ইঙ্গিতও আছে৻

কানাডার খুব প্রত্যন্ত, নির্জন অঞ্চলে এই বৈঠক হচ্ছে – এবং আয়োজকরা চেয়েছিলেন খানিকটা ঘরোয়া পরিবেশেই এই আলোচনা হোক৻ বৈঠকের শেষে থাকছে না কোনও বিবৃতিও৻

তবে জি-সেভেন আজ আর কতটা প্রাসঙ্গিক সে প্রশ্নও রয়ে যাচ্ছে – কারণ জি-টোয়েন্টি, যে জোটে চীন, ভারত, রাশিয়া বা ব্রাজিলের মতো বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্রগুলিও রয়েছে – তাদের ছায়ায় অনেকটাই ঢাকা পড়ে গেছে আলাদাভাবে শিল্পোন্নত দেশগুলির জোট জি-সেভেন৻