ইরান : পশ্চিমাদের সতর্ক প্রতিক্রিয়া

মানুচের মুত্তাকি
Image caption ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচের মুত্তাকি

পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে শীঘ্রই একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি হতে পারে বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানুচের মুত্তাকি যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও জার্মানি তাতে সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে৻

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য তা ইরান থেকে অন্য দেশে পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আই.এ.ই.এ.‘র প্রধানের সাথে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে মি:মুত্তাকি যে মন্তব্য মিউনিক-এ করেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই চুক্তির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে৻

মি: মুত্তাকি জানান, জাতিসংঘের পরমাণু সংস্থা বা আই.এ.ই.এ.‘র প্রধানের সঙ্গে তিনি আধঘন্টা কাটিয়েছেন এবং সেই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে৻

কিন্তু আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছুই তিনি প্রকাশ করেননি – বা কোনও পারমাণবিক জ্বালানি সমঝোতায় ইরান এখন কী মেনে নিতে প্রস্তুত তারও কোনও আভাস দেননি৻

প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইরান ঠিক কতটা পরিমাণ ইউরেনিয়াম জ্বালানি বিনিময় করতে প্রস্তুত, কিন্তু মি. মুত্তাকি সে প্রশ্নের জবাবও পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন৻

তিনি শুধু বলেন, ইরানের লক্ষ্য হল সারা বিশ্ব জুড়েই পরমাণু অস্ত্রসম্ভার নির্মূল করা এবং এই নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যে আগামী এপ্রিলে তেহরান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করবে৻

এর আগে চূড়ান্ত সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছনো গেছে বলে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাতে অবশ্য পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিছুটা সংশয়ের ভঙ্গীতেই!

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস যেমন বলেছেন, তাঁর হাতে যে তথ্য বা খবর আছে তাতে তিনি মনে করেন না সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছনো গেছে৻

তাঁর দাবী, ইরান তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচী বন্ধ করেছে এমন কোন প্রমাণ তাঁরা এখনও দেখতে পাননি৻

আর জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন ইরান কালক্ষেপন করছে৻

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বব আইনসওয়ার্থ আবার বলেছেন, অগ্রগতি হলে সেটা ভালই হবে, কিন্তু তাঁর আশঙ্কা এটাও হবে একটা ‘ফলস্ স্টার্ট‘ – অর্থাৎ শুরুটা হলেও সেটা কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে পৌঁছতে পারবে না৻