পণ্য বাজার নিয়ে মার্কিন হুমকি

চীনের বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশ সহজতর করতে বানিজ্য নীতির শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি প্রেসিডেন্ট ওবামা দিয়েছেন, চীন তা প্রত্যাখ্যান করেছে৻

Image caption প্রেসিডেন্ট ওবামা চান চীনা বাজার খুলে যাক

চীনা একজন সরকারী মুখপাত্র বলেছেন অনর্থক দোষারোপ এবং হুমকিতে কোন সমস্যার সমাধান হবেনা৻

তিব্বতী ধর্মগুরু দালাই লামার সাথে প্রেসিডেন্ট ওবামার দেখা করার পরিকল্পনা এবং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ঘোষনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্প্রতি তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে৻

এর মাঝে বানিজ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার হুমকি এ বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করবে, সন্দেহ নেই৻

দু তরফেই চলছে কড়া বাগাড়ম্বরের পালা৻ বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা যে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন তা খারিজ করে দিয়েছে চীন, বিশেষ করে, মুদ্রার মুল্যমান নির্ধারণের বিষয়টি৻

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মা ঝাওসু বলেছেন চীনা মুদ্রা ইউয়ানের মুল্যমান সঠিক৻

মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকদিন যাবত অভিযোগ তুলছিলো যে চীন তাদের মুদ্রার মুল্য কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখে যাতে সারা বিশ্বে তারা তাদের পণ্য সস্তায় রপ্তানী করতে পারে৻

যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্রাটিক সেনেটরদের এক বৈঠকে, পেনসিলভ্যানিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি, আর্লেন স্পেক্টর, প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে নালিশ করেন যে চীন খোলাখৃলিভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করছে৻

চীন ভর্তুকি দিয়ে, সস্তায় পণ্য উৎপাদন করে বাইরের বাজারে রপ্তানী করছে বলে মি.স্পেক্টর বলেন৻

জবাবে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন তাঁর প্রশাসন এটা নিশ্চিত করবে যে চীন এবং অন্যান্য দেশ যেন বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তি মেনে চলে৻

তিনি বলেন, চুক্তিতে যদি ‌এটা থাকে যে দু‘তরফকেই একে অপরের কাছে অভ্যন্তরীণ বাজার খুলে দিতে হবে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটা করেবে৻

তবে অপর পক্ষ যদি নানারকম অশুল্ক বাধা আরোপ করে, তাহলে সেটা অবশ্যই একটা সমস্যা এবং সেটা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন৻

মি. ওবামা বলেন, তাই তাঁরা আরো কঠোর হাতে বর্তমান নিয়ম কানুন বাস্তবায়ন করবেন, এবং চীন ও অন্যান্য দেশের ওপর চাপ বজায় রাখবেন তাদের বাজার উন্মোচন করার জন্যে৻

একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা এই হুঁশিয়ারীও দিয়েছেন যে চীনের সঙ্গে একটা বাণিজ্যিক বিরোধে জড়িয়ে পড়াটা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হবে৻

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন একটা সময় এল যখন তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রয়ের প্রশ্নে, এবং তিব্বতের নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা দালাই লামার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে চীন-মার্কিন সম্পর্কে টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে৻

চীন এই হুঁশিয়ারীর পুনরাবৃত্তি করেছে, যেসব মার্কিন সংস্থা তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রী করছে, তাদের ওপর বেইজিং নিষেধাজ্ঞা জারী করতে পারে৻

তবে বহু বিশেষজ্ঞ মনে করেন দু‘তরফ থেকেই যে বাক্যবান নিক্ষেপ করা হচ্ছে সেটা মুলত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসেব-নিকেষকে মাথায় রেখেই করা হচ্ছে, কেবল পরষ্পরকে লক্ষ্য করে নয়৻

তবে হ্যাঁ এটা যদি বেশী দিন ধরে অব্যাহত থাকে তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতীবাচক প্রভাবের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে৻