সরকারকে আরো সময় দিতে চান খালেদা

খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া বলেছেন নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সরকারকে আরো সময় দিতে রাজি বিরোধীদল৻ তবে সেজন্যে সরকারকেও বিরোধীদলকে সহযোগিতা করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন৻

বিরোধীদলীয় নেত্রী হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, দ্রব্যমূল্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর দল সংসদের ভেতরে বাইরে আন্দোলন গড়ে তুলবে ৻

সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় খালেদা জিয়া একথা বলেন৻

গণমাধ্যমের সম্পাদক এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ছিল মূলত, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা।

তবে বিএনপি নেত্রী উল্লেখ করেছেন, তারা সরকারকে এক বছর সময় দিয়েছেন এবং আরো সময় দিতে চান। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্য হচ্ছে, দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সংসদে এবং রাজপথে আন্দোলন করবেন।

তিনি মন্তব্য করেছেন, দেশে আর কখনো অসাংবিধানিক কোন সরকার আসুক তা বিএনপি চায় না। তবে বিরোধী দলকে আস্থায় নিয়ে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সরকারের দায়িত্ব অনেক বেশী।

বিরোধী দল যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য সরকারকে ভুমিকা রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

প্রায় এক বছর পর বিএনপি কয়েকদিন আগেই সংসদে ফেরার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।

সেই প্রেক্ষাপটে আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা যে মতামত দিয়েছেন তাতে গুরুত্ব পেয়েছে বিরোধী দলের সংসদে ফিরে কার্যকর ভুমিকা রাখা এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী অর্থাৎ দুই নেত্রীর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা বা সম্পর্কের বিষয়ে।

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া মন্তব্য করেছেন শুধু সংসদে কথা বললেই গণতন্ত্র টেকসই হয় না। তিনি সংবাদ মাধ্যমের যথাযথ ভুমিকা রাখার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

বিএনপি নেত্রী অভিযোগ তুলেছেন, যখন তারা সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন তখনই সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নানান রকম বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।

বিরোধী দল সংসদে গিয়ে সরকারের নেতিবাচক কর্মকান্ডের সমালোচনা করবে- যেটা সরকার চায় না বলে তারা মনে করেন। কিন্তু তারা সংসদে যোগ দিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য তুলে ধরবেন বলেই খালেদা জিয়া মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বিএনপি যে অবস্থান তুলে ধরেছে তাতে সংবাদ মাধ্যমকে উদ্ধৃত করে গোপন চুক্তি করার অভিযোগ ও তোলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেছেন সরকার যেসব সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলেছে- সেগুলোই গোপন রাখা হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী আরো উল্লেখ করেছেন ভারতের সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তিগুলোর বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত।

বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেছেন, এসব চুক্তির ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ বিরোধী ইস্যুগুলো চিহ্নিত করে বিএনপি প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।