যুক্তরাষ্ট্র হতাশ

Image caption বিনিয়াম মোহামেদ

আপিল আদালতের রায়ের পরপরই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ড হাউস অব কমন্সে দেওয়া বিবৃতিতে দাবী করেন, সরকার নীতিগত কারণে বিনিয়াম মোহামেদের ওপর নির্যাতনের বিবরণ সম্বলিত অংশটি প্রকাশের বিরোধিতা করেছিল৻

তাঁর ভাষায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, গোয়েন্দা তথ্য গোপন রাখার এই নীতি অনুসরণ করা হয়৻

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপিল আদালতের রায়ের পর গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে এবং বিবিসির ওয়াশিনটন সংবাদদাতা কেভিন কনোলি জানাচ্ছেন, হওয়াইট হাউসের বিবৃতেও এই বিষয়টির কথাই উল্লেখ করা হয়েছে৻

তিনি জানাচ্ছেন আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করার পাশাপাশি, বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকার গোয়েন্দা তথ্যের গাপনীয়তা বজায় রাখার যে চেষ্টা করেছে, তা স্বীকার করা হয়েছে৻

পাশাপাশি একথাও বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যের আদান প্রদান এখন থেকে জটিল হয়ে গেল৻

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে৻ তাই এই রায়ের পর মার্কিন প্রশাসন ঠিক কি অবস্থান নিতে যাচ্ছে সেটা জানতে আরো কিছুটা সময় লেগে যাবে৻

ব্রিটেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান কমিয়ে আনা হলে, ব্রিটিশ সরকার বিস্মিত হবে সন্দেহ নেই৻ কিন্তু ঠিক কি যে হতে যাচ্ছে তা ব্রিটিশ সরকারও আঁচ করতে পারছেনা৻

কেভিন কনোলি বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর জোটে গোয়েন্দা তথ্যের আদান প্রদান একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিট্রিশ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে এই সহযোগিতার গুরুত্ব অপরিসীম৻

কনোলি আরো বলছেন, এই সহযোগিতা কোন কারণে হুমকির মুখে পড়লে তা ব্রিটিশ সরকারের জন্য বড় ধরণের আঘাত বলে বিবেচিত হবে৻

আপিল আদালতের রায়ের পর বিনিয়াম মোহামেদের ওপর নির্যাতনের বিবরণ সম্বলিত অংশটি প্রকাশ করা হয়েছে৻ ২০০২ এর মে মাসের আগে, পাকিস্তানে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সঙ্গে কি ধরণের আচরণ করা হয়েছে তার বিবরণ রয়েছে এই অংশটিতে৻

সেসময় তাঁকে ঘুমাতে দেওয়া হতোনা, ভয় দেখানো হতো, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাতকড়া এং পায়ে বেড়ি পরিয়ে রাখা হতো৻

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিরোধী দলের মুখপাত্র উইলিয়াম হেগ বলেছেন, মি. মোহামেদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না৻

তাঁর ভাষায় সরকারের সন্ত্রাস বিরোধী কার্যক্রমই এমন অভিযোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৻