বাজেটের আগেই সম্পদের হিসেব প্রকাশ

Image caption অর্থমন্ত্রী মুহিত

বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন যে দেশটির মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চ-পদস্থ সরকারী কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী আগামী জুনে বাজেট অধিবেশনের আগেই প্রকাশ করা হবে।

এই সম্পদ বিবরণী ওয়েব সাইটে তুলে দেয়া হবে এবং যে কেউ তা দেখতে পাবেন বলেও মি. মুহিত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন যে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সরকার গত বছরই সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে চেয়েছিল, কিন্তু নানা কারণে তা করা যায় নি।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে ক্ষমতায় গেলে প্রতি বছর দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে।

কিন্তু ক্ষমতার প্রথম বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে নি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ সমালোচনাও হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর আগেও বলেছিলেন যে যত দ্রুত সম্ভব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে। তিনি এখন বলছেন যে আগামী জুন মাসে সংসদের বাজেট অধিবেশনের আগেই এটা করা হবে।

তিনি বলেন যে গত বছরই সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার কিছু দিন আগেই নির্বাচনের সময় সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য সম্পদের হিসাব দাখিল করেছিলেন। আর সে কারনে তখন সম্পদের হিসেব প্রকাশ করা হয় নি।

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করার উদ্যোগটিকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশের নতুন প্রধান বিচারপতি মো: ফজলুল করিম কয়েকদিন আগেই বলেছেন যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে বিচারপতিদের সম্পদের হিসেবও নেয়া উচিত।

আর সেকারনে ঠিক কাদের কাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চ-পদস্থ সরকারী কর্মকর্তারা এর আওতায় পড়বেন।

“এখন যেহেতু প্রধান বিচারপতি বলেছেন তাদের জন্যেও একই ব্যবস্থা করতে, তিনি প্রস্তাব দিলে আমরা নিশ্চয়ই সেটা গ্রহন করবো।“

মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সন্তান কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের সম্পদের বিবরনীও প্রকাশ করা হবে কিনা, এমন এক প্রশ্নে মি. মুহিত সরাসরি কোন জবাব দেন নি। তবে তিনি বলেছেন যে এক্ষেত্রে যা যা করা প্রয়োজন সরকার তাই করবে।