বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বাড়ছে

বাংলাদেশের একটি বেসরকারী সংস্থার পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়েছে যে দেশটিতে নারী নির্যাতন বাড়ছে এবং গত তিন বছরে পনের বছরের কম বয়সী কিশোরীরা বেশী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ঐ বেসরকারী সংস্থা, ব্র্যাক, বুধবার ঢাকায় গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশ করে বলেছে যে বিভিন্ন জেলা থেকে তারা নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যেসব তথ্য পেয়েছেন তাতে দেখা গেছে এসময়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ কিশোরী ধর্ষনের শিকার হয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশের ওপর ধর্ষনের চেষ্টা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঐ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

ব্র্যাকের গবেষকরা বলছেন যে ২০০৬ সালের জুন থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত নারী নির্যাতনের প্রায় তিন হাজার তথ্য সংস্থাটির ঢাকা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিলো। ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের নিজস্ব কর্মীরাই এসব তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

এসব তথ্য বিশ্লেষন করেই নারী নির্যাতন সম্পর্কিত ব্র্যাকের গবেষণা রিপোর্টটি তৈরী করা হয়েছে বলে জানান সংস্থাটির গবেষণা ও মূল্যায়ন বিভাগের উর্ধতন গবেষক ড. ফজলুল করিম।

তিনি বলেন যে ৫০ শতাংশ কিশোরী ধর্ষিতা হলেও ২৫-৩০ বছরের মহিলাদের মধ্যে ধর্ষনের শিকার হয়েছেন ৩৮ শতাংশ।

এটা দেখা গেছে যে বয়স যত বেড়েছে ধর্ষনের ঘটনা তত কমেছে, আর ধর্ষনের শিকার বেশী হচ্ছেন স্কুলগামী মেয়েরা।

ড. করিম বলেন যে অ্যাসিড সন্ত্রাসের যারা শিকার তাদের যেমন পূনর্বাসনের ব্যবস্থা আছে, ধর্ষনের শিকার যারা তাদের বেলায তেমনটি নেই।

আর তাই গবেষণায় দেখা গেছে যে আদালতের দ্বারস্থ না হয়ে ধর্ষনের শিকার অনেক কিশোরীই হয় নিরবে তা সহ্য করেছেন কিংবা আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

তিনি বলেন বাংলাদেশের আইন-কানুন এমন যে অনেক সময় ধর্ষনের ঘটনা আদালতে প্রমান করার ক্ষেত্রে ধর্ষনের শিকার মেয়েদেরকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়।

ড. করিম বলেন যেহেতু এখন মেয়েরা বেশী সংখ্যায় বাইরে কাজ করছেন এবং কিশোরীরা বেশী সংখ্যায় স্কুলে যাচ্ছেন, সেকারনে তাদেরকে দুর্বল ভেবে অনেক যুবক ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমীন চৌধুরী বলছেন যে সরকার কিশোরী ও নারী নির্যাতন বন্ধের জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপও গ্রহন করেছে।

ড. ফজলুল করিম বলেন যে কিশোরী ও নারী নির্যাতন বাড়ার কারণগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে জানার জন্যে আরো বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে এবং তাদের সংস্থা এ বিষয়ে আরো গবেষণার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।