হাসিনা, খালেদার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত অজানা দুটি করে অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে৻

দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আগে থেকে দুর্নীতির যেসব অভিযোগে মামলা রয়েছে, সেগুলোর বাইরে, বা অন্য অভিযোগের বিষয়ে এখন অনুসন্ধান করা হচ্ছে, এবং এই অনুসন্ধানের কাজে তাঁদের বক্তব্যও নেয়া হতে পারে৻

তবে দুর্নীতি কমিশন এটাও উল্লেখ করেছে যে অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে, তবেই, মামলা এবং তদন্তের প্রশ্ন ওঠে৻

Image caption প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া – তারা দুজন এর আগে যখন সরকারে ছিলেন, সেই সময়কার ঘটনাকে ঘিরেই তাদের বিরুদ্ধে দুটি করে অভিযোগ অনুসন্ধান করার কথা দুর্নিতি দমন দমন কমিশন বলছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগের মেয়াদে যখন সরকারে ছিলেন, সেই সময়ে লন্ডনে বাংলাদেশ সেন্টারের ভবন বিক্রি করে আরেকটি ভবন কেনা হয়েছিল।

এবিষয়েই বিগত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ে সংসদে অভিযোগ তুলে সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলীর নেতৃত্বে একটি কমিটি করে খতিয়ে দেখা হয়েছিল।

ঐ কমিটির সুপারিশে সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে অনুমোদন করেছিলেন।

এছাড়াও খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রকল্পে অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

কিন্তু এসব অভিযোগের কোন নিস্পত্তি করা হয়নি। সেকারনে এখন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে কমিশনের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন।

Image caption বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও দুটি অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সে ব্যাপারে দুর্নিতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন যে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ভৈরব সেতু নির্মাণে একশ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে এবং এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

এছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য ঢাকায় জমি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন যে এই অনুসন্ধানে যদি অভিযোগ সম্পর্কে সত্যতা পাওয়া যায়, তখনই কেবল মামলা করা এবং তদন্তের বিষয় আসবে ।আর এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হতে পারে।

সেখানে বক্তব্য নেওয়ার জন্য খালেদা জিয়াকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এই অনুসন্ধানের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেছেন যে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপে তাদের আপত্তি থাকবে না।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রীর একজন মুখপাত্র বলেছেন যে অনুসন্ধানের কাজে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তাতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য তুলে ধরতে আপত্তি নেই ।