রেডিওর ভাষা নিয়ে বিতর্ক

ভাষা বিতর্ক
Image caption ভাষা বিতর্ক

নানা দেশে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ রবিবার যখন নতুন প্রত্যয় নিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপন করছে, তখন বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ভাষা ঠিক কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক।আর এবার সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে মূলত: বেসরকারী রেডিওর উপস্থাপনার ভাষা।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

সঠিক ভাষা ব্যবহারের প্রশ্নে এমনকি সরকারের তরফ থেকেও দিন কয়েক আগে ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীর ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শ্রোতাদের কাছে বেসরকারী রেডিও স্টেশনগুলোর অনুষ্ঠান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।কিন্তু সম্প্রতি বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে এই অনুষ্ঠানগুলোতে উপস্থাপকরা ইংরেজী-বাংলার মিশেলে বা একেবারে কথ্য ভাষায় যে কথা বলেন তাই নিয়ে।

কিন্তু এ বিতর্কের কি কারণ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলছিলেন, যেসব শব্দকে বাংলা করলে মানুষ গ্রহণ করবে না শুধু সেগুলোই ইংরেজী করা উচিৎ, যেমন ইন্টারনেট - যার আক্ষরিক অনুবাদ করলে হবে অন্তর্জাল।

কিন্তু দর্শক বা শ্রোতার মত বহুল প্রচলিত শব্দকে লিসনার বা ভিউয়ার করার প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এদিকে বেসরকারী রেডিওর একজন উপস্থাপক নুসরাত বলছিলেন, আসলে তারা এমনভাবে কথা বলেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছুনোর জন্য। তিনি বলছিলেন এমনকি এখন আর বঙ্কিম চন্দ্রের গদ্যের ভাষা চলছে না।

কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, যিনি তাঁর রচনায় এ ধরনের ভিন্নতা এনেছেন, তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চের ভাষণও দিয়েছেন একেবারে সাধারণ মানুষের মুখের ভাষায়, আর সে কারণেই এই স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের তরফ থেকে নতুন করে ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে। কিন্তু ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলছে সরকার প্রমিত বাংলার কোন নির্দেশনা না দিয়েই সতর্ক করছে।

সাধারণ মানুষের যারা এ অনুষ্ঠানগুলো উপভোগ করেন তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।