খাগড়াছড়ি এলাকায় কারফিউ

পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়িতে মঙ্গলবার পাহাড়ী ও বাঙালীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর শহর ও শহরতলী এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে৻

Image caption ঢাকায় বিক্ষুদ্ধ পাহাড়ী ছাত্ররা

সহিংসতায় নিহত একজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে৻ প্রশাসন বলছে নিহত ব্যক্তি বাঙালী বলে ধারণা করা হচ্ছে৻

গত শুক্রবার রাঙামাটির বাঘাইহাটে পাহাড়ী- বাঙালী সংঘর্ষে দু’জন পাহাড়ী নিহত হবার প্রতিবাদে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ- এর ডাকা অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে খাগড়াছড়ি শহরে মঙ্গলবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আমীর জাফর বিবিসিকে জানিয়েছেন অবরোধের সমর্থনে ইউপিডিএফ মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি শহরে মিছিল বের করলে বাঙালীদের তরফ থেকেও একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেশ কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাটে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ বলছে এতে পাহাড়ী ও বাঙালী উভয় পক্ষের বাড়িঘর ও দোকানপাট পুড়ে যায়।

সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০জন আহত হয়েছে বলে পুলিশ বলছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারী করে এবং শহরে সেনাবাহিনী টহল শুরু করে। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারীর পরও খাগড়াছড়ি শহরের পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বিকেলের দিকে আবারও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের ঘটনার পর প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকিং করে জনসাধারণকে ঘর থেকে বের না হবার নির্দেশও দেওয়া হয়৻

সংঘর্ষের সুত্রপাতের জন্য ইউপিডিএফ-এর অন্তর্ভূক্ত সংগঠন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের নেতা মিঠুন চাকমা স্থানীয় কিছু বাঙালীকে দায়ী করেছেন। মিঠুন চাকমা অভিযোগ করছেন পুলিশ চাইলে প্রথমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত।

তবে ইউপিডিএফ-এর এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করছে বাঙালীদের একটি সংগঠন বাঙালী ছাত্র পরিষদ।

সংগঠনটির নেতা মোহাম্মদ আলমগীর বলছেন ইউপিডিএফ তাদের অবরোধের সমর্থনে সশস্ত্র মিছিল বের ক‘রে শহরে বাঙালী মালিকানাধীন কিছু দোকান ও বাড়িতে হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সংঘর্ষ, এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় খাগড়াছড়ি শহর জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিক তরুন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি শহরের পরিস্থিতি থমথমে এবং সাধারন মানুষ প্রতি মূহুর্ত আতঙ্কে পার করছে।

শহরের পরিস্থিতিকে মি: ভট্টাচার্য রণক্ষেত্র বলে বর্ণনা করছেন। শহরের কোথাও যাতে লোকজন জড়ো না হয় সেজন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী মাইকিং করেছে।

এদিকে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আমীর জাফর বিবিসিকে জানিয়েছেন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে অগ্নিসংযোগের সাথে কারা জড়িত সেটি পুলিশ এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

অন্যদিকে পার্বত্য এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী আগামীকাল সেখানে যাচ্ছেন।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ঘটনার সূত্রপাত

ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে বাঘাইছড়ির গঙ্গারামমুখ এলাকায় পাহাড়ী ও বাঙালীদের মধ্যে শুক্রবারে সংঘর্ষ শুরু হয়৻ বেশ কিছু বাড়ী-ঘরেও আগুন দেওয়া হয়।

শুক্রবারের সংঘর্ষে সেখানে দুজন পাহাড়ী নিহত হয়৻

এই সংঘাতের জের ধরে সোমবার রাঙ্গামাটিতে দু পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে৻

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাবেক বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি শনিবারের ঘটনার সংসদীয় তদন্তের দাবী জানিয়েছে৻

জনসংহতি সমিতি সোমবার রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের দফতরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করে৻

রাঙ্গামাটির বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও একই দাবীতে মিছিল করেছে এবং জেলা প্রশাসকের দফতরে গিয়ে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছে৻

বাঙ্গালীদের একটি সংগঠন বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদও সোমবার রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ করেছে৻ এই সংগঠনটি আগামী ২৫শে ফেব্রুয়ারী তিনটি পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ পালনের ডাক দিয়েছে৻

দু সপ্তাহের মধ্যে বিচার

সরকারের পার্বত্য শান্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির প্রধান সাজেদা চৌধুরী জানিয়েছেন, দু সপ্তাহের মধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শেষে বিচার করা হবে৻

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতাদের ওপর৻

পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে উত্তেজনার জন্য বিরোধী দল বিএনপি সেখান থেকে অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছে৻

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, এসব অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প যখন প্রত্যাহার করা হয় তখন তারা এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন৻ কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি৻

তিনি বলেন, পুরো পার্বত্য শান্তি চুক্তিই এখন সংসদে পর্যালোচনার সময় এসেছে৻

কিন্তু সংসদের উপ-নেতা সাজেদা চৌধুরী বলেন, সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহারের সরকারী সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিল৻ তিনি বলেন, জনসংহতি সমিতি এবং স্থানীয় জনগণের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতেই সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল৻ কারণ এসব ক্যাম্পের কারণে স্থানীয়দের অসুবিধা হচ্ছিল৻