বিডিআর পুর্নগঠন এক বছরে

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই বিডিআর পুর্নগঠনের প্রক্রিয়া শেষ হবে৻

জওয়ানদের নিয়ে দরবারের শুরুতেই ভাষণে বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম গুরুত্ব দিয়েছেন বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের জৈন্তাপুর সহ কয়েকটি সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যে হয়েছিলো সে প্রসঙ্গ তুলে জেনারেল ইসলাম দাবি করেন বিডিআর ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এক বছরের মধ্যেই এই বাহিনীর পুর্নগঠনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেছেন,

Image caption বিডিআর-এর দরবার অনুষ্ঠান

‘সবাই ধরে নিচ্ছে যে বিডিআর দুর্বল৻ কিন্তু বিডিআর দুর্বল নয় এবং সীমান্তে সঠিকভাবে দায়িত্ব করছে৻ এখন বিডিআর-এর মুলমন্ত্র তিনটি৻ আমরা নতুন, আমরা এক, আমরা বলীয়ান, এই মন্ত্রেই সবাইকে এগুতে হবে।‘

এই পুর্নগঠনের মধ্যে দিয়ে বিডিআর একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে পরিণত হবে উল্লেখ করে বিডিআর মহাপরিচালক বলেন ঢাকায় সদর দপ্তরের বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহের একবছর পরে এখনও অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না, যেটিকে তিনি লজ্জাজনক হিসেবে বর্ণনা করেন৻ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন,

‘গত বছরের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারী বিডিআর বিদ্রোহ এবং ঢাকায় পিলখানায় হত্যা লুন্ঠনসহ বিভিন্ন যে অপরাধ ঘটেছিলো, সেই ঘটনার তদন্তের জন্য এবং মামলার কারণে বিডিআর সদর দপ্তরে অস্ত্র-শস্ত্র সিলগালা করে রাখা হয়েছে।‘

তবে এসব অস্ত্র অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলেও বিডিআর প্রধান জানান। বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি এস এ গেমস-এর সময় বিডিআর-এর একশ সদস্যের একটি দল অস্ত্র সহ দায়িত্ব পালন করেছিল, এবং সেটি ছিল যাত্রা শুরু । এখন ঢাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে তাতে বিডিআর অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন ।

দরবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিবিসি বাংলার কাদির কল্লোল জানাচ্ছেন নয়শ’র মত জওয়ান এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই দরবার বসেছিল ঢাকার পিলখানায় খেলার মাঠের পাশে একটি প্রশিক্ষণ ছাউনীতে। এক বছর আগে যে দরবার হলে বিদ্রোহের সুত্রপাত হয়েছিল, সেই হল থেকে কিছুটা দূরত্বেই ছিল এবারের দরবারের জায়গা।

বিডিআর সপ্তাহের মাঝে এবং দরবারে বিদ্রোহের ঘটনাটির এক বছর পর এবার শুধুই দরবারের মাধ্যমে বিডিআর সপ্তাহ পালন করা হল।

বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম বলেন, বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে এবং জড়িতদের ধিক্কার জানাতে এবার কোনরকম জাঁকজমক ছাড়া অনাড়ম্বরভাবে বিডিআর সপ্তাহ পালন করা হল সংক্ষিপ্ত আকারে শুধু একদিনের দরবারের মাধ্যমে।

বিডিআর মহাপরিচালক বিদ্রোহের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কেও বক্তব্য তুলে ধরে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য জওয়ানদের সহযোগিতা চেয়েছেন ।

একবছর আগে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী -বিডিআরের রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহের ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল এই দরবারে যেটি ছিল সাধারণ সৈনিকদের অভাব অভিযোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনার স্থান৻

২০০৯এর ২৫ এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারীর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন প্রাণ হারান৻