মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ

RAB
Image caption বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার।

বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এর পাশাপাশি নিরাপত্তা হেফাজতে বিডিআর সদস্যদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতাও প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ বেড়েছে।

মার্কিন সরকারের এই রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এই প্রতিবেদন কি তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ৻ এছাড়া স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধির জন্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেন ৻

তবে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বিষয়ে বলা হয়, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করা এবং জরুরি অবস্থা উঠিয়ে নেওয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে নিহতের সংখ্যা ৩ শতাংশ বেড়েছে। সরকার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের প্রতি সম্পূর্ণ অসহিষ্ণু আচরণ করেছে এবং আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডগুলোর কোনো তদন্ত করেনি।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা ফিরে এলেও এখনো ক্ষমতার 'গুরুতর অপব্যবহার' অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হেফাজতে থাকা অবস্থায় মৃত্যু, আইন বহির্র্ভূতভাবে গ্রেপ্তার ও বন্দি করা এবং সাংবাদিক হয়রানির মতো ঘটনা ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের সদস্যরা অপর্যাপ্ত বেতনভাতা এবং সেনাবাহিনী থেকে আসা বিডিআরের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিদ্রোহ করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলে, সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন এনজিও‘র খবর অনুযায়ী এই বিদ্রোহের পরে এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ৫৯ জন পুলিশি হেফাজতে মারা যান।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এসব অভিযুক্তরা নির্যাতিত হয়ে মারা যান বলে নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়।

এই মৃত্যুগুলোর তদন্তে সরকার একটি কমিটি গঠন করলে ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র দুই জন নির্যাতনের কারণে মারা যান । তবে এর পরে সরকার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।