বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে না

বাংলাদেশে জ্বালানী সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে দেয়ার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, সেটি পুরোপুরি বাতিল করেছে৻

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রীসভার বৈঠক থেকে দাবী করা হয়েছে, গত বছর ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে নিয়ে দিনের আলোর সদ্ব্যাবহার করায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছিল৻

কিন্তু সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আর সময় পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে কর্মকর্তারা বলছেন৻

দিনের আলোর ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল গত বছরের ১৯শে জুন।

পরে শীতের সময়টাতে গত ৩১শে ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা পিছিয়ে নেওয়া হয়েছিল বা আগের সময়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

তখনই আবার আগামী ১লা এপ্রিল থেকে ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে ঘোষনা দিয়ে রাখা হয়েছিল।

কিন্তু বছরে দু‘বার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের এমন পদক্ষেপের ব্যাপারে সমালোচনা উঠেছিল শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহল থেকে। এখন ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের ঐ সিদ্ধান্তটিই বাতিল করে দেওয়া হলো।

সোমবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের দূর্ভোগের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ঘড়ির কাঁটা আর পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, গত বছরে ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের কারনে ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়েছিলো।

কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষেত্রে মানুষের দূর্ভোগের বিষয়টিকেই প্রধানমন্ত্রী বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

ঘড়ির কাঁটার আর পরিবর্তন করা হবে না - এই সরকারী সিদ্ধান্তের ব্যপারে ঢাকার রাস্তায় বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে কথা হলে, তাদের বেশীরভাগই সরকারের এখনকার সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত বলে বর্ননা করেছেন।