যুদ্ধের দলিল নিয়ে ভারতে বিতর্ক

ভারতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিল নষ্ট করে ফেলার খবর ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে সেখানে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে৻
কেন এবং কিভাবে এসব দলিলপত্র ধ্বংস করা হয়েছে তা তদন্তের জন্য আজ ভারতের কয়েকটি রাজনৈতিক দল দাবী জানিয়েছে৻
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের এক সম্বর্ধনার আয়োজন করতে গিয়ে সম্প্রতি জানা যায় যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের কর্মকর্তারা এসব নথি ধবংস করে ফেলেছেন৻
ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এর এক মুখপাত্র আজ বিবিসিকে বলেছেন যে বাংলাদেশের যুদ্ধের গুরুত্বপূণ দলিল ধ্বংসের এই ঘটনায় তারা বিস্মিত৻
কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল ভারতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়৻ পাকিস্তানী বাহিনীর ৯০ হাজার সদস্য ঐ যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে৻ এরকম আত্মসমর্পনের দ্বিতীয় কোন নজির সম্ভবত বিশ্বের ইতিহাসে নেই৻ তারপরও এরকম একটি ঘটনার ঐতিহাসিক দলিল নষ্ট করে ফেলায় তারা বিস্মিত৻
উল্লেখ্য এসব দলিলপত্র যখন ধ্বংস করা হয় তখন কংগ্রেসই ছিল ভারতের শাসন ক্ষমতায়৻
ভারতের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং কিভাবে এরকম ঘটনা ঘটতে পারলো তার তদন্ত দাবী করেছে৻ বিজেপির একজন নেতা তথাগত রায় এর পেছনে কোন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৻
ভারতের একটি কমিউনিষ্ট দল সিপিআইও এ ঘটনার নিন্দা করে বলেছে, দলিলপত্র ধ্বংস করা ঠিক হয়নি৻
কোলকাতায় রাখা ছিল দলিলপত্র
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সময়কার এসব দলিল কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে রাখা ছিল। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই তা কুটি কুটি করে ছিঁড়ে ফেলা হয়৻
৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব একাত্তর সালের যুদ্ধের এসব অমূল্য দলিল নষ্ট করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেনারেল জ্যাকব বিবিসি বাংলাকে বলেন যে ১৯৭৪ সালে তিনি যখন পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সে সময় তিনি বাংলাদেশ যুদ্ধের বিভিন্ন দলিলপত্র দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তখন তাঁকে জানানো হয় যে সেসব দলিল নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
তবে কার নির্দেশে এসব দলিল নষ্ট করে ফেলা হয়েছিলো সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এসব দলিলাদি ধ্বংস করে ফেলার বিষয়টি এতো দিন তা গোপন রাখা হয়েছিল।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করতে গিয়ে কলকাতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা দলিলাদি ধ্বংস করে ফেলার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি জানতে পারেন।
বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন শিবির কোথায় ছিল এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়েই এ ব্যাপারটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে গিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর দেখে এ সংক্রান্ত অনেক তথ্য অথবা দলিল, যেগুলো সংরক্ষিত থাকার কথা ছিল, সেগুলো নেই। এরপর দলিলগুলো খুঁজতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিলেও সেগুলো আর পাওয়া যায়নি৻




