তিস্তার জল বন্টন আলোচনা ‘শিগগির‘

তিস্তা নদীর জল বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে৻

Image caption বাংলাদেশে তিস্তা ব্যারেজ

বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বিবিসি-কে বলেছেন, দুই দেশের ৫০টিরও বেশি অভিন্ন নদীর মধ্যে তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি করার বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে৻

এদিকে ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লং-মার্চ দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন রবিবার নানা কর্মসূচী পালন করেছে৻

ভারত গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা এলাকায় বাঁধ দিয়ে তা চালু করে ১৯৭৫ সালে। এর পরের বছরে তৎকালীন ন্যাপ নেতা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঐ ফারাক্কা বাঁধ অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। এই দিনটিতেই বাংলাদেশে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন নানারকম কর্মসূচি পালন করে থাকে।

তবে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে; তার মধ্যে শুধু একটিতে অর্থাৎ গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এর আগের সরকারের সময়ে।

এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন বলেছেন, অভিন্ন নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এমুহুর্তে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি করার বিষয়েই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Image caption শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদী

সেজন্য শিগগিরিই যৌথনদী কমিশনের সচিব এবং মন্ত্রী পর্যায়ে দু’টি বৈঠক হবে। এর বাইরে আরও ছয়টি নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।

যদিও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি করার বিষয়টি এখন দুই দেশেরই আলোচনায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু তিস্তাসহ সাতটি নদীর বিষয়ে এই আলোচনা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনাগুলো চলছে নদীতে বিভিন্ন সময়ে যে পানি থাকবে, তার ভিত্তিতে বণ্টনের প্রশ্নে। নদীর উৎস থেকে পানি ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে কোন পক্ষ থেকেই কিছু বলা বলা হচ্ছে না।

বাংলাদেশের অন্যতম একজন পানি বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতেও নদীর উৎস থেকে পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছিল।

তিনি মনে করেন, নদীতে পানি প্রবাহ অনেক সময়ই কম থাকে। ফলে শুধু নদীতে পানির পরিমানের উপর ভিত্তি করে চুক্তি করলে তাতে সমস্যা থেকেই যায়।

সেখানে নদীতে পানি প্রবাহ বাড়ানোর বিষয় চুক্তিতে থাকা প্রয়োজন এবং সেকারণে নদীর উৎস বা অববাহিকার ভিত্তিতে চুক্তি করা উচিত বলে ড. নিশাত উল্লেখ করেন ।

তবে পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দাবি করেছেন, প্রাপ্ত প্রবাহের ভিত্তিতে নদীর পানি বণ্টন আর্ন্তজাতিকভাবে স্বীকৃত। আর সেভাবেই বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চুক্তি করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, ফারাক্কা বাঁধ বিরোধী একটি ফোরাম রবিবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর চরে একটি সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশে বিরোধীদল বিএনপি এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রেখেছেন।

ঐ সমাবেশ থেকে অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।