পুলিশী হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ

বাংলাদশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনে নুরুল হক নামে একজন রিক্সাচালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৻

Image caption বাংলাদেশ পুলিশ লোগো

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলছে, অসুস্থতার কারণে ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে৻ তা স্বত্ত্বেও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন৻

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৻

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় প্রত্যন্ত এক গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ নুরুল হক নামের একজন রিক্সাচালককে গ্রেফতার করেছিলো গত শনিবার মধ্যরাতে। রোববার ভোরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

তার ভাই ফারুক আহমেদ এই মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুলিশী নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে। ফারুক আহমেদের অভিযোগ -তার ভাই রিক্সাচালক নুরুল হক জুয়া খেলার অভিযোগে একটি মামলায় আদালতে হাজির হতে না পারায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

নুরুল হককে গ্রেফতারের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

ফারুক আহমেদ অভিযোগ করেন, ‘ভাইয়ের মৃতদেহ দেখেই পরিবারের সদস্যদের মনে হয়েছে যে তার উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।‘

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রূপক কুমার সাহা বলেছেন নুরুল হককে একটি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গ্রেফতার করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ তাকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এবং তার হৃদরোগের কথা উল্লেখ করে তাকে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেছেন, জুয়া খেলা এবং অনেক মানুষ মিলে হত্যাকান্ড ঘটানো - এই দুটি অভিযোগে দুটি মামলায় নুরুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

হেফাজতে মৃত্যুর আগের ঘটনা

সপ্তাহ দুয়েক আগে ঢাকায় পুলিশের হেফাজতে পর পর তিনটি মৃত্যুর ঘটনা এবং তাতে নির্যাতনের অভিযোগ হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। বিষয়টিতে একটি রিট মামলায় হাইকোর্ট পুলিশকে বাদী রেখে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।

স্বরাষ্ট্রসচিব আব্দুস সোবহান শিকদার বলেছেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা দু-একদিনের মধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। একই সাথে স্বরাষ্ট্রসচিব উল্লেখ করেছেন পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সত্র্কতার সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করা সহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।

পুলিশের আইজি নুর মোহাম্মদ বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটি অসুস্থতার কারণেই ঘটেছে বলে তারা জেনেছেন। এরপরও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় সেখানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এলেই তা তদন্ত করা হয় এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন নির্দেশনা নিয়ে কাজ করার পরও অনেকসময়ই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে পুলিশের আইজি বলেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণগুলোতে এখন মানুষের সঙ্গে আচরণ করার বিষয়টিতে বেশী জোর দেওয়া হচ্ছে৻