পিলখানা হত্যায় ৮২৪ অভিযুক্ত

অভিযুক্তদের একাংশ
Image caption অভিযুক্তদের একাংশ

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের সময় হত্যা, ষড়যন্ত্র আর অস্ত্রলুঠের মতো ঘটনায় পুলিশ সোমবার ৮২৪ বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনকরেছে৻

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, মূলত: বেতন-ভাতা সংক্রান্ত অসন্তোষ থেকেই বিদ্রোহের সময় এসব হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে তারা তদন্তে দেখতে পেয়েছেন৻

ঢাকায় বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকান্ডের মামলাটিতে দু’হাজারের বেশি আটক করা হয়েছিল। এখন চার্জশীটে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৮২৪ জনকে।

এই অভিযুক্তদের ৮০১ জনই বিডিআর সদস্য। আর বাকিরা বেসামরিক লোক।

মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের আব্দুল কাহার আকন্দ বলেছেন, বড় সংখ্যায় অভিযুক্তদের সকলেই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল বলে তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন।

এর ভিত্তিতেই ৮২৪ জনকে অভিযুক্ত করে বিস্তরিত তুলে ধরা হয়েছে চার্জশীটে ।

চার্জশীটে সেনাবাহিনী, বিডিআর, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার ১২০০’র বেশি লোককে সাক্ষী করা হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহ এবং তাতে হত্যাকান্ড, লুন্ঠন, ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধ যা ঘটেছিল, এসব ঘটনার পিছনে মুল কারন হিসেবে বাহিনীটিতে কথিত দাবিদাওয়া নিয়ে অসন্তোষের বিষয়কে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ বলেছেন, কথিত দাবিদাওয়া নিয়ে ১৯৯১ সালেও বিডিআর’এ বিদ্রোহ করা হয়েছিল, তখন তা বড় আকারে হয়নি।

এর সূত্র ধরেই এবার বিডিআর সদস্যদের বিদ্রোহীরা ব্যাপক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে কথিত দাবিদফা আদায় করতে চেয়েছিল, যা সম্ভব হয়নি বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর তা নিয়ে নানান রকম অভিযোগ উঠেছিলো।

এর পেছনে বাইরের কোন শক্তির ইন্ধন আছে কি না, অথবা রাজনৈতিক কোন উদ্দ্যেশ্য থাকতে পারে কি না-এমন অনেক অভিযোগ তোলা হয়েছিলো প্রধান দুই দল থেকেই।

তবে মি. আকন্দ বলেছেন, তারা রাজনৈতিক ইস্যুতে তদন্ত করেননি, হত্যাকান্ডের মামলাটিতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই তাদের তদন্ত সীমাবদ্ধ ছিলো।

অন্যদিকে চার্জশীটে ৮২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে যে ২৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন, তাদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন পিন্টু এবং হাজারীবাগ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মি. আকন্দ মন্তব্য করেছেন, এই দুজন রাজনীতিক বিডিআর সদর দপ্তরের পাশেই বসবাস করেন, এবং তাদের সাথে বিডিআর-এর বিদ্রোহী সদস্যদের যোগাযোগ ছিলো।

ফলে স্থানীয় এই দু’জন রাজনীতিকসহ বেসামরিক লোক যাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদেরকেই চার্জশীটে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে আদালত থেকে কয়েকদফা সময় বাড়িয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত এক বছরেরও বেশী সময় পরে এসে এই চার্জশীট দেওয়া হলো।

প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ বলেছেন, ব্যাপক একটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের এই সময় নিতে হয়েছে।

তদন্তে তারা দেখেছেন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার প্রথম দিনেই অর্থাৎ ২৫শে ফেব্রুয়ারিতেই সদর দপ্তরে সব হত্যাকান্ড সহ বড় ধরনের অপরাধগুলো ঘটানো হয়েছিলো।

তিনি উল্লেখ করেছেন, বিদ্রোহীরা হত্যার পর লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলো।

কিন্তু পরে মত পরিবর্তন করে গণকবর দিয়েছিলো এবং কিছু লাশ ম্যানহোলে ফেলে দিয়েছিলো।

ঢাকায় বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করে চার্জশীটের বক্তব্য তুলে ধরার পর তা পেশ করা হয় মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে।

এখন হত্যা মামলাটিতে আদালতে চার্জশীট দেওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

তবে বিডিআর সদর দপ্তরে অস্ত্র ও গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে আরেকটি মামলায় শীঘ্রই চার্জশীট দেওয়া হবে বলে সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার ব্যাপারে ওই বাহিনীর আইনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিচার কার্যক্রম এখন চলছে।