ঢাকায় ভারতের ব্যবসায়ী দল

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক
Image caption বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সাথে মনি শংকর আইয়ার

ভারতের একজন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান রাজ্যসভার একজন সদস্য মনি শংকর আইয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সফররত মি: আইয়ারের নেতৃত্বে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সোমবার বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সাথে এক মতবিনিময় করেছে।

তবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের বিরুদ্ধে নানা রকম বাঁধা অনেক সময় তাদের নিরুৎসাহিত করে।

এফবিসিসিআই’র সাথে বৈঠকে মি: আইয়ার বলেন, ভারতে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সে তুলনায় উওর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে প্রবৃদ্ধি অর্ধেকের মতো।

ঐ অঞ্চলে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বড় পরিকল্পনা নিয়েছে – এ কথা উল্লেখ করে মি: আইয়ার বলেন, এজন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা ভীষন প্রয়োজন।

মি: আইয়ার বলেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভারত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৯% শতাশেং উন্নীত করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের সহযোগিতা ছাড়া সেটি সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক উন্নতিতে বাংলাদেশ যদি সহায়তা করে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও দু’শতাংশ বাড়বে বলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন।

বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন , “আমি আপনাদের আহবান জানাই আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে আপনারা বিনিয়োগ করুন। কারন এখানে ব্যবসার প্রচুর সুযোগ আছে। আমরা যদি ভারতের অন্যান্য অংশের মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করতে পারি তাহলে আমরা চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবো।”

কিন্তু ভারতের মতো দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে যাওয়া দেশ কয়েকটি রাজ্যেরে উন্নতির জন্য কেন বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইছে? সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মি: আইয়ার।

তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর ব্যবসায়ীক যে সুবিধা আছে সেটি নেয়া ভারতের অন্য রাজ্যের ব্যবসায়ীদের জন্য ততটা সহজ নয় যতটা বাংলাদেশী সহজ ব্যবসায়ীদের জন্য।

ভৌগলিকভাবে ভারতের অন্য রাজ্যগুলোর তুলনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বাংলাদেশের খুবই কাছে হওয়ায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে যে সুবিধা সেখান থেকে নিতে পারবে সেটি ভারতের ব্যবসায়ীদের পক্ষে সম্ভব নয়।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের যে সীমান্ত আছে সেটি চোরাকারবারীদের কাছে পরিচিত হলেও সাধারন ব্যবসায়ীদের কাছে পরিচিত নয় বলে মি: আইয়ার মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা শুধু পশ্চিমবঙ্গের দিকেই তাকায়।

মি: আইয়ার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য যে সম্ভাবনার চিত্র আঁকছেন, সেটি এখানকার ব্যবসায়ীরা কতটা দেখছেন? এফবিসিসিআই’র সভাপতি এ: কে: আজাদ বলছেন, বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল উত্তর-পূর্বঞ্চলীয় রাজ্যগুলো সফর করবে।

মি: আজাদ বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প, সিমেন্ট ও টয়লেট্রিজ পন্যের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।

তবে বিনিয়োগের আগে বাংলাদেশের সাথে ভারতের যে বাণিজ্য ঘাটতি আছে সেটি কমিয়ে আনার পক্ষে এখানকার ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পন্য প্রবেশে নানা বাঁধা রয়েছে। ভারত যদিও বলছে ৪০০০ পন্য আছে যেখানে কোন শুল্ক বাঁধা নেই।

ব্যবসায়ী হোসেন খালেদ বলেন, ভারত যে ৪০০০ পন্যের উপর শুল্ক ছাড় দিয়েছে সেগুলো বাংলাদেশ উৎপাদন করেনা।

মি: খালেদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে মূলত: পাট ও পাটজাত পন্য , ঔষধ , সিমেন্ট ও নানা রকম খাদ্যসামগ্রি রপ্তানী হয়। কিন্তু এসব রপ্তানীর ক্ষেত্রে নানা রকম অশুল্ক বাঁধা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মি: খালেদ বলেন, বাজার ও বিনিয়োগের সুবিধা থাকলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসহ যে কোন জায়গায় মূলধন খাটাতে তাদের কোন আপত্তি নেই।

এদিকে উভয় দেশর ব্যবসায়ীরা আরও বিস্তারিত আলোচনার আগামী ছ’মাসের মধ্যে আগরতলায় আরেকটি বৈঠকের আয়োজন করবে বলে ঐকমত্য হয়।