বিডিআর মামলায় দ্রত বিচার আইনে পরিবর্তন

ক‘জন বিডিআর সদস্য
Image caption অভিযুক্তদের একাংশ

বাংলাদেশে সরকার বিডিআর বিদ্রোহের হত্যাকান্ডের বিচার যাতে দ্রুত বিচার আদালতে করা যায় সেজন্যে সংশ্লিষ্ট আইনে কিছু সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিচ্ছে৻

এই মামলায় সোমবারই পুলিশ ৮২৪ জন বিডিআর সদস্য এবং বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেছ৻

তবে মামলায় সরকারপক্ষের প্রধান কৌশুলি আনিসুল হক বলছেন, এত বড় একটি মামলার বিচার দ্রুত বিচার আদালতে নির্দিষ্ট ১৩৫ দিনের মধ্যে করা সম্ভব নাও হতে পারে, সেজন্যে সংশ্লিষ্ট আইনে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব তারা সরকারের কাছে পাঠাচ্ছেন৻

বিডিআর বিদ্রোহে ঢাকায় বাহিনীর পিলখানা সদরদপ্তরে ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা, লুন্ঠনসহ গুরুতর যেসব অপরাধ ঘঠেছিল—সে ব্যাপারে ফৌজদারি আইনে মামলায় এক বছরেরও বেশি সময় তদন্তের পর সিআইডি পুলিশ গতকাল চার্জশীট দিয়েছে।

এই মামলায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার করার কথা সরকার আগেই ঘোষণা করেছিল। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার কার্যক্রম শেষ করার জন্য সর্ব্বোচ্চ ১৩৫ দিনের সময় নির্ধারিত রয়েছে।

কিন্তু মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁশুলি আনিসুল হক বলছেন, ৮২৪ জন অভিযুক্ত এবং ১২৮৫ জন সাক্ষী নিয়ে এতবড় একটি ঘটনার বিচার কাজ নির্ধারিত ১৩৫দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়।

সেকারনে তারা আইনজীবীরা সময় বাড়ানোর জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করবেন।

আনিসুল হক উল্লেখ করেন, মামলাটিতে বড় সংখ্যক অভিযুক্ত এবং সাক্ষীদের নিয়ে বিচার কর্য়ক্রম শেষ করতে কতটা সময় প্রয়োজন হবে, সেটা হিসাব নিকাশ করে তারা দু’একদিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি তৈরির কাজ শেষ করবেন।

একই সাথে মি. হক বলেছেন, বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকান্ডের এই মামলায় বিচার কাজের জন্য ৩৬৫ কার্যদিবস সময় প্রয়োজন হবে বলে তিনি ধারনা করছেন।

আইন মন্ত্রী ব্যারিষ্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, বিচার কার্যক্রমের সময় বাড়ানোর জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব যদি সংশ্লিষ্ট আইজীবীরা তুলে ধরেন, তবে সেটা সরকার বিবেচনা করবে।

অন্যদিকে বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকান্ডের মামলায় বিচারের সময় বাড়ানোর জন্য যদি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আইনের সংশোধন করা হয়, তাতে অন্য মামলার দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রে কোন বাধার সৃষ্টি হবে না বলে দাবি করেছেন আইনজীবী আনিসুল হক ।

তিনি বলেন, আইনে সংশোধন করা হলেও সাধারন মামলায় বিচারের জন্য ১৩৫ দিনের সময়সীমা বহাল রাখা হবে।

বাড়তি যে সময় যুক্ত করা হবে, সেখানে বিধান রাখা হবে, যাতে বিডিআর বিদ্রোহে হত্যাকান্ডের মামলার মতো বড় ধরনের মামলায় বিচারের ক্ষেত্রে সেই বাড়তি সময় প্রয়োগ করা যায়।

আনিসুল হক বলেছেন, তারা দু’একদিনের তাদের প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তাদের প্রস্তাবের ব্যাপারে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা সংসদের চলতি অধিবেশনেই পাসের উদ্যোগ নেবে।