জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা রিমাণ্ডে

Jamaat-e-Islami leaders Muhammad Kamaruzzaman and Abdul qader Mollah
Image caption বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মুহাম্মদ কামারুজ্জামান

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের দু’জন নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে বুধবার আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের পুলিশী রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।

দেশটির স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১সালে ঢাকায় পল্লবী এলাকায় গণহত্যার অভিযোগে একটি মামলায় আদালত ঐ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে ।

জামায়াতের এই দু’জন সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

পরদিন বুধবার তাদেরকে ঢাকার মহানগর হাকিমের আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে দশ দিন করে রিমাণ্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।

তাদের পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আদালত জামায়াতের ঐ দু’জন নেতাকে জামিন না দিয়ে তাদের প্রত্যেকের পাঁচদিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে।

যে কারনে মামলা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল ঢাকার পল্লবী এলাকায় গণহত্যা চালানো হয়েছিল, এই অভিযোগে মামলাতেই জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ঐ রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে।

ঢাকার মিরপুর এলাকার একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মোল্লা গণহত্যার অভিযোগে প্রথমে একটি পিটিশন মামলা করেছিলেন ২০০৮সালের জানুয়ারী মাসে ।

পরে আদালত এজাহার হিসেবে গ্রহন করে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেছেন, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামায়াতের ঐ দু’জন নেতাকে পুলিশ রিমাণ্ডে নিয়েছে।

সরকারী আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেছেন, জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ তিনজন শীর্ষনেতাকে কিছুদিন আগে যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তখন প্রথমে তাদেরকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

তবে এবার জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং আব্দুল কাদের মোল্লাকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ঘটনার চল্লিশ বছর পর এসে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা দেওয়ার আইনগত কোন ভিত্তি আছে বলে তারা মনে করেন না। এই বক্তব্য তিনি এবং তাঁর মক্কেল আব্দুল কাদের মোল্লা আদালতে দিয়েছেন বলে মি:রাজ্জাক জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এই মামলায় মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মো: মুজাহিদকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, মি:নিজামী এবং মি: মুজাহিদসহ জামায়াতের শীর্ষ তিনজন নেতাকে ৫টি মামলায় ১৬দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।

এই রিমাণ্ড বাতিলে জন্য তাদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল, যে আবেদনের উপর বুধবার থেকে শুনানী শুরু হয়েছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য