ঢাকায় ভারতীয় ব্যবসায়ী দল

Chittagong Port Bangladesh
Image caption চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ ভারতের সাথেই বেশী জড়িত

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চেয়ে বরং ভারতের স্বার্থের সঙ্গেই বেশী জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন সেই দেশের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনি শংকর আইয়ার।

একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে চার-দিনের বাংলাদেশ সফরের পর ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বর্তমানে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য মিঃ আইয়ার বলেন যে চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্যে ভারতের বেসরকারীখাত এবং সরকার আগ্রহ দেখাবে বলে তিনি মনে করেন।

মনি শংকর আইয়ার বাংলাদেশে আসেন ৩৩-সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়ীরাই মূলত এই প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন।

এই সফরের সময় ভারতীয় দলটি বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন, সফর করেন চট্টগ্রামও।

এই সফরের উদ্দেশ্য ছিলো উত্তর-পূর্বের ভারতীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা যোগাযোগ কীভাবে আরো বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কথাবার্তা বলা।

সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে চট্টগ্রাম বন্দরের কথা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মিঃ আইয়ার উল্লেখ করেন সিঙ্গাপুরের কথা, যেটি দক্ষিন-পূর্ব এশিয়াতে নৌবাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন যে চট্টগ্রামও এই অঞ্চলের সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের সিংগাপুর হওয়ার জন্যে আপনাদেরও চেষ্টা জোরদার করতে হবে।'

তিনি বলেন, কিন্তু বর্তমানে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তার মাধ্যমে এটা করা সম্ভব নয়। ভারতের পক্ষ থেকে যদি এ ব্যাপারে কোন সহায়তা দরকার হয়, আমি নিশ্চিত আমাদের বেসরকারীখাত খুব আগ্রহ নিয়েই তা করবে।

“আর সরকারের সাহায্যের কথা যদি বলেন, আমি মনে করি সরকারকে যথাযথভাবে অনুরোধ করা হলে সরকার সেটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। কারন নানাভাবে, চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চেয়ে বরং ভারতের স্বর্থের সঙ্গেই বেশী জড়িত।“

ভারতের ব্যবসায়ীরাও বলছেন যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী।

মিঃ আইয়ার, যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বলছেন যে চট্টগ্রাম বন্দরের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও বন্দরটির যথেষ্ঠ উন্নয়ন হয়নি।

তিনি মনে করেন বন্দরটির যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার মাত্র ২৫ শতাংশের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন যে কোলকাতার মতো বন্দরের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তুলনা করলে এটা বলা যায় যে চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের বড় ধরনের সুযোগ রয়ে গেছে।

“আমার প্রতিনিধিদলে যারা এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাঁরা এটা দেখে আশ্চর্য হয়েছেন যে কন্টেইনার এবং ভারী মালামাল ওঠানো-নামানোর জন্যে যে ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োজন, তা চট্টগ্রাম বন্দরে যথেষ্ঠ পরিমান নেই।“

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত জানুয়ারী মাসে যখন ভারত সফর করেন, তখন দুই দেশের মধ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

সেই সময় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে বাংলাদেশ ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেবে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য