মংলা বন্দর নিয়ে সমঝোতা

Image caption মংলা বন্দর

নেপাল যাতে বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহার করতে পারে সেজন্যে দুদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে৻

ঢাকায় দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর কর্মকর্তারা জানান, এর ফলে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নেপালের পণ্যবাহী যান চলাচলে আর কোন বাধা রইল না ।

এনিয়ে আগামী বছরের আগেই উভয় দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তি হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন উভয় দেশের মধ্যে ১৯৭৮ সালে ট্রানজিট চুক্তি সম্পাদন করা হলেও সরাসরি যোগাযোগের অভাবে সেটি কার্যকর হয়নি। এই বৈঠকে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য নেপাল সড়ক পথ এবং বন্দর কিভাবে ব্যবহার করবে সেটি চূড়ান্ত হলো।

কর্মকর্তারা বলছেন নেপাল চাইলে তাদের গাড়ীতে করে মংলা বন্দর থেকে সেদেশে পণ্য আনা নেয়া করতে পারবে।

এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব গোলাম হোসেন বলেন কীভাবে ট্রাক আসবে, চালকসহ অন্যান্যদের কাছে কোন ধরনের কাগজপত্র রাখতে হবে এবং কিভাবে পণ্য সীলগালা করতে হবে – এসব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে।

সড়ক এবং রেলপথ

সড়ক যোগোযোগে নেপালের মংলা বন্দর ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা – সৈয়দপুর – রংপুর – বগুড়া – নাটোর – কুষ্টিয়া – যশোর – খুলনা – এই পথ ব্যবহারের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। অন্যদিকে রেল যোগাযোগে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য বাজশাহীর রোহনপুর – ঈশ্বরদী – খুলনা – এই পথ আলোচনায় রয়েছে।

নেপাল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পণ্য আনা নেয়া করতে পারলেও বাংলাদেশ আপাতত সড়কপথে সরাসরি পণ্য রপ্তানী করতে পারছেনা। বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব বলছেন এটি করতে আরও সময় লাগবে।

নেপালের সাথে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল ভারতীয় ভূখন্ড ব্যবহার করা। কিন্তু গত বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর মধ্যে বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়৻ তারপরই বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে ট্রানজিটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন ভারতীয় ভূখন্ড ব্যবহারের জন্য দু’দেশের মধ্যে এখন আলোচনা চলছে। এটি চূড়ান্ত হলে নেপালের সাথে আরেকটি চুক্তি করতে হবে বাংলাদেশকে।

নেপাল আগ্রহী

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেপালের বাণিজ্য সচিব পুরুষোত্তম ওঝা বলেছেন কলকাতা বন্দর ব্যবহারের পরিবর্তে মংলা বন্দর করলে সেদেশের আমদানী-রপ্তানীতে খরচ কমবে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক সংস্থা বা ইউএনএসকাপ এর সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড: এম রহমহতউল্লাহ বলেন নেপালকে ট্রানজিট দেয়া উভয় দেশের জন্য সমান লাভজনক হবে ।

মি: রহমতউল্লাহ বলেন নেপাল বর্তমানে কলকাতা বন্দর ব্যবহার করে তাদের পণ্য আমদানী – রপ্তানী করে। বাংলাদেশ সুবিধা দিলে নেপাল কলকতা বন্দর ব্যহারের পরিবর্তে মংলা বন্দর ব্যবহার করবে এবং সেজন্য বাংলাদেশ নেপালের কাছ থেকে চার্জ পাবে । এতে করে বাংলাদেশের রাজস্ব অনেক বাড়বে বলে মি: রহমতউল্লাহ মনে করেন।

বাংলাদেশের লাভ

কিন্তু বাংলাদেশের ভূখন্ডে নেপালী পরিবহন চলাচলের জন্য বাংলাদেশ কোন ট্রানজিট ফি নেবেনা। এছাড়াও বন্দর ব্যবহারের চার্জের ক্ষেত্রেও নেপালকে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ। তাহলে বাংলাদেশের লাভ কী হলো ?

এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব বলেন, “আমরা কিছুটা ছাড় দিয়েছি কারন নেপাল আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। ট্রানজিট ফি না পেলেও এর সাথে আরও নানরকম ফি জড়িত এবং সেটা আমাদের জন্য লাভজনক হবে।”

বাণিজ্য সচিব বলেন , “মংলা বন্দরের যে সুযোগ সুবিধা আছে সেটি যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। যদি কোন বন্ধু দেশ সেটি ব্যবহার করে তাহলে বন্দর সচল থাকবে এবং আমরা কিছু চার্জ পাব। এটিও বড় অর্জন”

উভয় দেশের মধ্যে বর্তমান বাণিজ্য বিপুল না হলেও যোগাযোগের উপর সম্ভাবনা অনেকটা নির্ভর করছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড: মোস্তাফিজুর রহমান ।

তিনি বলেন বাংলাদেশ বর্তমানে ৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য নেপালে রপ্তানী করে এবং প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলারের মতো আমদানী করে। ড: রহমান বলেন সরাসরি যোগাযোগ হলে সে সম্ভাবনা অনেক বাড়বে। কারন নেপাল বর্তমানে ভারতের বাইরে থেকে প্রায় ১৪০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানী করে। বাংলাদেশ এ সুবিধা নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ড: রহমান বলেন সাফটার অধীনে বাংলাদেশ ও নেপাল পরষ্পরকে কিছু শুল্কমুক্ত পণ্য নিজেদের বাজারে প্রবেশের সুবিধা দিলেও খারাপ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে সেটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

এদিকে বৈঠকে ঢাকা – কাঠমান্ডু সরাসরি সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এটি চালু করা সম্ভব হলে উভয় দেশের মধ্যে পর্যটকদের সুবিধার বিষয়টিকেও গুরুত্বসহকারে দেখছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা ।