মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই লক্ষ্য

Image caption বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর ডঃ আতিউর রহমান

বাংলাদেশে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ডঃ আতিউর রহমান সোমবার এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বলেছেন যে মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে আগামী ছয়মাসে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ কমানো হবে, তবে প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতগুলো বিনিয়োগের জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থ পাবে।

কিন্তু ঋণের প্রবাহ বেশী বেড়ে গেলে তা আরো সংকুচিত করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়মাস মেয়াদী নতুন মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বর্তমানের উচুহারের মুল্যস্ফীতিকে।

সর্বশেষ পাওয়া সরকারী হিসেবে মুল্যস্ফীতির হার সাড়ে আট শতাংশের মতো।

গত মে মাসের পর মুল্যস্ফীতি কমতে শুরু করলেও সম্প্রতি প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।

ফলে মুল্যস্ফীতির হার আবারো বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আর এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতির একটা বড় লক্ষ্যই হলো মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, ‘উৎপাদনশীল সকল অর্থনৈতিকখাতের প্রসারে আমরা ঋণ প্রাপ্তি যেমন নিশ্চিত করবো, তেমনি অনুৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে ভোগের প্রসার ঘটে এমন খাত, যা প্রডাক্টিভ না, তাকে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ আমরা মুদ্রানীতিতে নিয়েছি।‘

তিনি বলেন, মোদ্দাকথা হলো মুল্যস্ফীতি যেন আমরা সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, এটাই এই মুদ্রানীতির প্রধানতম উদ্দেশ্য।

পাশাপাশি সরকার বাজেটে ৬.৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, সেটা অর্জনের জন্যে যেধরনের আর্থিক সহযোগিতা দরকার হবে তাও এই মুদ্রানীতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে বলে ডঃ রহমান উল্লেখ করেন।

মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে যেকোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটা বড় অস্ত্র হলো ঋণের প্রবাহ কমিয়ে দেয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকও আগামী ছয়মাসে ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে কীনা, এমন এক প্রশ্নে গভর্নর বলেন যে যখনই মনে হবে ঋণের প্রবাহ বেশী বেড়ে গেছে, এবং মুদ্রা সরবারহও বেশী বেড়ে গেছে, তখন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক চোখ বন্ধ করে বসে থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘তখন সেই মুদ্রা শুষে নিয়ে, আবার পুরানো গতিধারায় মুদ্রা কর্মসূচীকে ফিরিয়ে আনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। সুতরাং সেই সম্ভাবনা এবং শংকা – দুইই তো আছে।‘

ডঃ আতিউর রহমান বলেন যে মুদ্রানীতির আওতায় ঋণের বাজার সুশৃংখল ও স্থিতিশীল রাখার জন্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পদক্ষেপ নেবে, একই সাথে জোরদার করা হবে নজরদারীও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বাংলাদেশে বর্তমানে মুল্যস্ফীতি বেশ থাকার অন্যতম কারন খাদ্যপণ্যের উচু দাম।

আর সেকারনে শিল্পে কিংবা অন্যান্য প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতে ঋণের প্রবাহ কমে গেলে তা অর্থনীতির জন্যে নেতিবাচক হবে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

তবে গভর্নর ডঃ রহমান মনে করেন যে পরিস্থিতি তেমনটা হবে না, কারন মুল্যস্ফীতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।

তিনি বলেন যে গত মে মাস থেকে মুল্যস্ফীতির হার কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে এবং এটা অনেকটা সহনীয় পর্যায়ের মধ্যেই রয়েছে, যদিও ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনো বলা যায়না।

তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের পাশের দেশে মুল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বেশ খারাপ, সেটার কারনে আমরা খানিকটা শংকিত যে আমাদের দেশে তা না চলে আসে। সেই কারনে আমরা একটু আগাম চিন্তা-ভাবনা করছি।‘

“কিন্তু কোন অবস্থাতেই উৎপাদনশীলখাত – তা শিল্পই হোক, কিংবা কৃষি – তাদের টুটি চেপে ধরবো না। বরং প্রবৃদ্ধি যারা বাড়ায়, তাদের দিকে আমরা আমাদের সহায়তার হাত আরো বাড়িয়ে দেবো।“

ডঃ আতিউর রহমান বলেন যে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে।

কিন্ত্র সেক্ষেত্রে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর যাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ার কোন চাপ না পড়ে, বরং তাদেরকে যেন সহায়তা দেয়া হয়, সেব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।