পাক-মার্কিন সম্পর্কে দূরত্ব কমছে

Image caption পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে হিলারী ক্লিনটন

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন দাবি করেছেন যে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে যে আস্থার সংকট ছিল, তা অনেক কমে এসেছে৻ তবে তিনি স্বীকার করেন যে এক্ষেত্রে এখনো অনেক কিছু করার রয়েছে৻

হিলারী ক্লিনটন ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে পাকিস্তানের জন্য ৫০ কোটি ডলারের নতুন অর্থ সহায়তাও ঘোষণা করেন৻

এই অর্থ খরচ করা হবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং জ্বালানী খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে৻

পাকিস্তানী পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশীও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর দেশের অভিন্ন স্বার্থের গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে৻

উল্লেখ্য সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র৻ কিন্তু সেই পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সম্প্রতি নানা টানাপোড়েন চলছে৻

মিসেস ক্লিনটনের এই সফরের লক্ষ্য ছিল দুশের সম্পর্কের এই সন্দেহ –অবিশ্বাস দূর করা৻ মার্কিন প্রশাসন মনে করে, ইসলামী জঙ্গীদের দমনে পাকিস্তান সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না৻ হিলারী ক্লিনটন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় এ প্রসঙ্গ আবারো তুলেছেন৻

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে মিসেস ক্লিনটন বলেছেন, তারা পাকিস্তানীদের দিক থেকে এক্ষেত্রে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ আশা করেন৻ তিনি স্বীকার করেন যে পাকিস্তানের মাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে একটা আশংকা তাদের মধ্যে আছে৻ এবং এরকম হামলা যদি সত্যি ঘটে, তা হবে দুদেশের সম্পর্কের ওপর বড় আঘাত৻

"এরকম একটা হামলার আশংকা আমাদের মধ্যে সব সময়েই আছে, পাকিস্তানীরাও একই আশংকায় আছে৻ সে কারণেই আমরা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছি৻ তবে পাকিস্তানের দিক থেকে এ ক্ষেত্রে আমরা আরও কিছু পদক্ষেপ আশা করি৻ যদি পাকিস্তানের মাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোন সন্ত্রাসী হামলা হয়, আমার কোন সন্দেহ নেই যে তা আমাদের দু দেশের সম্পর্কে একটা বিরাট প্রভাব ফেলবে৻"

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের নামে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তা নিয়ে পাকিস্তানের অনেক মানুষই সন্দিহান৻

মাত্র ১৭ শতাংশ পাকিস্তানী যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখে, মার্কিনীদের ব্যাপারে এতটা বিরূপ মনোভাব বিশ্বের আর কোন দেশে নেই৻ যুক্তরাষ্ট্র এখন বিপুল অর্থ এবং কারিগরী সহায়তার মাধ্যমে পাকিস্তানীদের মন জয়ের চেষ্টা করছে৻

যে সাতশো কোটি ডলারের সাহায্য মার্কিন কংগ্রেস গত বছর অনুমোদন করেছে, তাই এখন পাকিস্তানের জ্বালানী, বিদ্যুত এবং পানি সরবরাহ সহ বিভিন্ন জনসেবা মূলক খাতে ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র৻

পাকিস্তানীদের মন জয়ের জন্য এই মার্কিন কৌশল শেষ পর্যন্ত কতটা কাজ দেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়৻ আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত রিচার্ড হলব্রুকও স্বীকার করছেন যে, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় যদিও অনেক উন্নতি হচ্ছে, পাকিস্তানী জনমতে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না৻