বাংলাদেশে কয়লা খনি ঘেরাও

boropukuria, coal mine, bangladesh
Image caption বাংলাদেশের একমাত্র কয়লা খনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া। -ফাইল ছবি।

বাংলাদেশের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় আড়াই হাজারের বেশী ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণের দাবিতে খনি এলাকা ঘেরাও করেছে কয়েক হাজার মানুষ।

দাবি আদায়ের জন্য তাঁরা খনির প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে খনি এলাকায় সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির ব্যানারে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ খনি এলাকা অবরোধ করে রেখেছে।

তাঁরা বলছেন, খনির কারণে তাঁদের বাড়িঘর সহ অন্যান্য স্থাপনার যে ক্ষতি হয়েছে সেই ক্ষতিপূরণ তাঁরা পাননি। আর সেকারণেই তাঁরা আন্দোলন করছেন।

জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্ববায়ক ইব্রাহিম খলিল বিবিসিকে বলেন, খনির কারণে ওই এলাকায় ২৬০০ ঘরবাড়ি সহ স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।

এছাড়াও ওই এলাকার মানুষকে খনিতে কাজ দেওয়ার কথা ছিলো সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি। এসব সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত তাঁরা ওই এলাকা ছাড়বেন না বলেও তিনি জানান।

এদিকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বিবিসিকে বলেছেন, খনি এলাকার বাইরে রয়েছে এমন ঘরবাড়ির জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে যেটি যুক্তিসংগত নয়।

তাঁদের হিসেবে, খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এমন ঘরবাড়ীর সংখ্যা ১১৫০ টির মতো এবং তাঁরা এবার সেসব পরিবারকেই ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছেন।

তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি কিন্তু খনি এলাকায় বাস করে এমন পরিবারগুলোকে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা নয়।

তিনি আরো বলেন, খনির কারণে কেউ যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, তবে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা সরকার সহানুভুতির সাথে বিবেচনা করবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েন

এদিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সিদ্দিকী তানজিলুর রহমান বলেছেন, সংঘর্ষ এড়াতে এবং নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তাঁরা খনি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছেন।

এছাড়াও এলাকাবাসীকে শান্ত রাখতে তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

ক্ষতিপূরণের ধরন

দিনাজপুরের কয়লা খনির কারণে সরকারের পক্ষ থেকে তিন ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণের জন্য, খনি এলাকায় প্রতিবছর যে ফসল উৎপাদন হতো তার জন্য এবং খনির কারণে বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনার যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ।

এর আগে গত মার্চ মাসে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটি খনি এলাকায় স্থায়ী ক্ষতিপূরণের জন্য আন্দোলন করেছিলো।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য