ন্যূনতম মজুরি দিতে বিদেশী ক্রেতাদের চাপ

Image caption পোষাক শিল্পে মজুরি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে যে দেশটির পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী গ্রামের শ্রমিকদের মজুরী হারের চেয়েও কম এবং পোষাক শ্রমিকদের মজুরী অতি দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

এর আগে পোষাক শ্রমিকদের মজুরী বাড়ানোর জন্যে আহবান জানিয়েছিল পশ্চিমা পোষাক ক্রেতা কোম্পানীগুলো।

তবে শ্রমমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন যে বাংলাদেশ নিজস্ব প্রয়োজনেই পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়াবে।

আগামী ২৮শে জুলাই নতুন মজুরী কাঠামো ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংক পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে সদ্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে।

এতে বলা হয়েছে যে তৈরী পোষাক শিল্পে বর্তমানে ন্যূনতম যে মজুরী হার চালু রয়েছে, তা এমনকি গ্রামীণ শ্রমিকদের মজুরী হারের চেয়েও অনেক কম।

পোষাক শিল্পের ন্যূণতম মজুরী এখন ১,৬৬২ টাকা, যা ২০০৬ সালে ঠিক করা হয়েছিল।

পোষাক শিল্পের নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন যে ভরা মওসুমে গ্রামের একজন কৃষি শ্রমিক প্রতিদিন ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। যদিও তাঁর কাজ নিয়মিত নয়, কিন্তু তারপরও পোষাক শিল্পের ন্যূনতম মজুরীর চেয়ে তাঁর আয় বেশী হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে আরো বলা হয়েছে যে পোষাক শ্রমিকদের যৌক্তিক জীবনমানের জন্যে উন্নত দেশের ক্রেতারা বেতন বাড়ানোর বিষয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তারও নিরসন হওয়া জরুরী।

পশ্চিমা বেশ কিছু কোম্পানী সম্প্রতি শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছে।

ঐ চিঠির অনুলিপি দেয়া হয়েছে পোষাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-কেও।

বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হাসান ঐ চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন যে তাঁরাও শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে চান।

তবে পশ্চিমা কোম্পানীগুলো শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কথা বললেও তৈরী পোষাকের দাম বাড়াতে ঐ কোম্পানীগুলোই চায় না বলে অভিযোগ করেন মিঃ হাসান।

পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে এমনকি পশ্চিমা শ্রমিক অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোও সরকারকে আহবান জানিয়েছে।

শ্রমমন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন যে সম্প্রতি এমন কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে বলেছেন।

“তাঁরা বলেছেন যে শ্রমিকরা যেখানে বঞ্চিত, তাদের তৈরী কাপড় কেন আমরা পড়বো। আমি তাদের বলেছি যে এটা আপনাদের বিষয়, তবে আমরা আমাদের প্রয়োজনেই শ্রমিকদের বেতন বাড়াবো।“

পোষাক শ্রমিকদের বেতন বাড়বে, এটা এখন মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু কতটা বাড়ানো হবে, তা নিয়ে এখনো দর কষাকষি চলছে।

অর্থনীতিবিদ গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন যে ২০০৬ সালে মজুরী কাঠামো ঘোষণার পর মুল্যস্ফীতি ওবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নিলে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বেতন বাড়ানো প্রয়োজন।

এতে করে ন্যূনতম বেতন হতে পারে ২,৮৪০ টাকা, কিন্তু তাও যথেষ্ঠ নয় বলেই মনে করছেন মিঃ মোয়াজ্জেম।

পোষাক শ্রমিকদের নতুন মজুরী কাঠামো নির্ধারনের জন্যে যে বোর্ড এখন কাজ করছে, বুধবারই তার সদস্যরা আরো এক দফা বৈঠক করবে বলে জানা গেছে।