স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয়

Image caption এটিএম শামসুল হুদা

বাংলাদেশে এবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা যাবে না বলে আশংকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন৻

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা জানিয়েছেন, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আইনী জটিলতাই এক্ষেত্রে প্রধান বাধা৻

মিস্টার হুদা বিবিসিকে জানান, এ সংক্রান্ত আইন যদি অতি দ্রুত সংশোধন করা না হয় তাহলে চলতি বছরেও ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোর নির্বাচন করা সম্ভব নয়৻

উল্লেখ্য বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভাগুলোর মেয়াদ শেষ হলেও হলেও সীমানা নির্ধারন সংক্রান্ত আইনী জটিলতার কারনে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হচ্ছেনা।

আসছে নভেম্বরে পৌরসভা ও ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়।

কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় আইন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন করা না হলে সেটি সম্ভব হবে না ।

তার অর্থ সংসদের চলতি অধিবেশন অর্থাৎ ২২শে জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত আইন পাশ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন আইন অনুযায়ী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে একটি ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১০ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারবেনা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা বলেছেন সীমানা পুননির্ধারনের বিষয়টি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “আসল কাজ তো হয়নি। আইনের সংশোধন না হলে আমরা কিছুই করতে পারবো না ।” তিনি বলেন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের যাবতীয় প্রস্তুতি থাকলেও আইনের সংশোধনী না হওয়াটা সবচেয়ে বড় বাধা।

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটার সংখ্যার বিবেচনায় ইউনিয়ন পরষিদ নির্বাচনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচন ধরা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বচরের জন্য হলেও তিন বছর আগে সেই মেয়াদ পেরিয়ে গেছে৻ দেশের পৌরসভার প্রতিনিধদের মেয়াদও শেষ হয়েছে আরও আগে।

অন্যদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হবার পরেও আরও আড়াই বছর পার হয়েছে। কমিশন ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চাইলেও আইন অনুযায় সীমানা পুননির্ধারন না হওয়ায় সেটি করা যাচ্ছেনা । সীমানা পুননির্ধারনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন বা পৌরসভার মতো ১০ শতাংশ ভোটার কম-বেশি থাকার বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় । কিন্তু আইন অনুযায়ী সমতার ভিত্তিতে সীমানা পূননির্ধারনের কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

মি: হুদা বলছেন সীমানা পূননির্ধারনের জন্য সরকারকে চিঠি দিলেও কোন উত্তর মেলেনি। “সীমানা পুননির্ধারন না করেও আমরা নির্বাচন করতে পারি কিন্তু কেউ যদি আদালতে রীট দায়ের করে তাহলে সে দায়-দায়িত্ব আমাদের নয়।”

কর্মকর্তারা বলছেন সীমানা পুননির্ধারন ছাড়া যে ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন সম্ভব নয় সেটি কমিশন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছে। কমিশনের মনোভাব জানিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেয়া হবে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন।