উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা

hillary clinton
Image caption মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চলেছে৻

দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এবং যার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকেই দয়ী করে তারই জের ধরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে৻

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সফরের সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ত্র বিক্রয় এবং বিলাসবহুল পণ্যের আমদানীর ক্ষেত্রে আরো বিধিনিষেধ আরোপিত হবে৻

নতুন করে আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা কিভাবে কার্যকর হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি তবে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজের ওপর উত্তর কোরিয়ার কথিত হামলার শাস্তি হিসেবেই যে এ‌ই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো এটা অত্যন্ত পরিষ্কার৻

রাজধানী সোওলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রের প্রসার রোধ এবং ভবিষ্যতে আরো উসকানিমূলক ঘটনা নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৻

‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার প্রতিরোধে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ আমি এসব পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করছি৻ অস্ত্র কর্মসূচির জন্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়া যেসব অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে সেসব থামাতে এবং তারা যাতে আরো উসকানিমূলক কাজ করতে না পারে সেজন্যেই এই নিষেধাজ্ঞা৻ এর ফলে উত্তর কোরিয়া অস্ত্র বেঁচা-কেনা করতে পারবে না, আমদানী করতে পারবে না বিলাসবহুল সামগ্রী৻ অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রমও তারা চালাতে পারবে না৻‘ বলেন মিসেস ক্লিনটন৻

এ বছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রণতরী ডুবে যওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক এক তদন্তে উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হয়েছিলো৻ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে টর্পেডোর আঘাতে এই রণতরী ডুবিয়ে দেওয়া হয় যাতে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটে৻ উত্তর কোরিয়া অবশ্য শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে৻

সংবাদ সম্মেলনে মিসেস ক্লিন্টন বলেন, উত্তর কোরিয়ার সাধারন জনগণের বিরুদ্ধে নয় বরং সরকারের ক্ষতিকর কর্মসূচি প্রতিরোধেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৻

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করি উত্তর কোরিয়া এরকম কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যার মাধ্যমে জাহাজডুবির ঘটনায় তারা তাদের ভূমিকার কথা স্বীকার করে নেবে৻ এর মধ্য দিয়ে কোরিয় উপদ্বীপে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হবে, সম্ভব হবে উস্কানিমূলক কার্যক্রম এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো অবস্থার অবসান ঘটানো৻‘

Image caption কোরিয়ায় সেনামুক্ত এলাকা সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস

সংবাদ সম্মেলনের আগে মিসেস ক্লিনটন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেইটস উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী সৈন্যমুক্ত এলাকা সফর করেছেন৻ এসময় রবার্ট গেটস বলেন, উত্তর কোরিয়ার অসুস্থ নেতা কিম জং ইলের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে উত্তর কোরিয়া আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে৻

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাসের ঘটনায় এমন কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্রিয়া চলছে৻ এ কারণে তারা উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে৻ পরিস্থিতির ওপর আমাদের ঘনিষ্টভাবে নজর রাখতে হবে৻ এ ধরনের প্রতীকি পদক্ষেপের ফলে উত্তর কোরিয়াকে প্রতিরোধের প্রক্রিয়া আরো জোরালো হবে যা দেখিয়ে দেবে যে আমরা ভীত নই৻‘

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, ওয়াশিংটনের এই হুশিয়ারিতে উত্তর কোরিয়া কান দেবে বলে মনে হয়না৻ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এখনও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে৻ কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই ১৯৫৩ সালে এই দুটো দেশের যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং তারপর থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে৻

এদিকে, জাপান সাগর ও পীত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়া পরিচালনার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে খোদ উত্তর কোরিয়াতো বটেই, চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে৻