৮জন জেএমবি সদস্যের কারাদন্ড

Bogra jmb convicts
Image caption বগুড়ার সাজাপ্রাপ্ত ৪জন জেএমবি সদস্য

বাংলাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার পাঁচ বছর পর বগুড়ায় সে সর্ম্পকিত একটি মামলায় মঙ্গলবার পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

২০০৫সালের ১৭ই আগষ্ট মুন্সিগঞ্জ বাদ দিয়ে দেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছিল নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বা জেএমবি।

জঙ্গী তৎপরতা নিয়ে কাজ করে, এমন বেসরকারি সংগঠনগুলো বলছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় যেসব মামলা হয়েছে, তার তিন ভাগের এক ভাগ মামলায় এপর্যন্ত বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নুর খান লিটন বলছেন, ‘জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে বেশির ভাগ মামলাই এখনও ঝুলে রয়েছে।‘

তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের হিসাব অনুযায়ী ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে ১৬৯টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৪টির বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে, বিচারাধীন রয়েছে ৮১টি আর বাকিগুলো এখনও তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া সিরিজ বোমা হামলার ঘটনার আগে এবং পরে তিনশ’র বেশি মামলা হয়েছে জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে।

সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় মামলাগুলোর ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে পুলিশ বলছে, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা এবং জামায়াতুল মুজাহিদীন ও হরকাতুল জেহাদসহ বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা নিয়ে এপর্যন্ত ৩৯৫টি মামলা হয়েছে। এগুলোর ৩২৮টিতেই চার্জশীট দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে ।

অন্যদিকে, ২০০৭সালে জেএমবি-র শায়খ আব্দুর রহমান এবং বাংলাভাই নামে পরিচিত সিদ্দিকুল ইসলাম সহ ছয়জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ঝালকাঠিতে বোমা হামলায় দু’জন বিচারক হত্যা মামলায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নুর খান লিটন বলছেন, তাঁদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে সিরিজ বোমা হামলাসহ জঙ্গী তৎপরতা নিয়ে মামলার তদন্তে একধরনের ধীরগতি রয়েছে৻ এই কারণে ঘটনা ঘটার পাঁচ বছর পরও মামলাগুলো সেভাবে এগুচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

Image caption জেএমবির কাছ থেকে উদ্ধার অস্ত্রশস্ত্র (ফাইল ছবি)

তিনি বলেছেন, জেএমবি’র শীর্ষ ছয় জনের ফাঁসি কার্যকর হওয়াটাও তদন্তের ধীরগতির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ হতে পারে।

তবে পুলিশের আইজি নুর মোহম্মদ দাবি করেছেন, ‘জঙ্গী তৎপরতার বিরুদ্ধে মামলাগুলো অগ্রাধিকার দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে৻` একইসাথে তিনি তদন্তের ক্ষেত্রে লোকবলের অভাবসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তিনি শীর্ষ জঙ্গীদের ফাঁসি কার্যকর হওয়া এবং বিভিন্ন মামলায় এখন যে আদালতে রায় হচ্ছে, এসব বিষয়ও তুলে ধরেছেন।

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন , তাদের মন্ত্রণালয়ে মনিটরিং সেলের মাধ্যমে এই মামলাগুলোতে নিয়মিত পর্যালোচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে এগুনো হচ্ছে ।

মঙ্গলবার সাজাপ্রাপ্ত জেএমবি সদস্যরা

২০০৫ সালের ১৭ই অগাস্ট বগুড়ার জজ কোর্ট এলাকা, জেলা প্রশাসন এলাকাসহ শহরের ১৩টি স্থানে একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে বগুড়া স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়ালিউল্লাহ, নওগাঁর গোলাম কিবরিয়া, গাইবান্ধার মো. মামুনুর রশীদ, বগুড়ার আবদুর রাজ্জাক ও সিরাজুল ইসলাম৻ এদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া পলাতক রয়েছেন৻

জেএমবির এই ৫জন সদস্যকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে৻ একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে তাদের আরই দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে৻

মঙ্গলবারের অন্য মামলায় ২০০৫ সালে ময়মনসিংহ শহরের একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের দায়ে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল যে তিনজনকে ২০ বছর মেয়াদের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে তারা হলেন ফাঁসি কার্যকর হওয়া বাংলা ভাইয়ের স্ত্রী ফাহিমা আখতার, এবং জেএমবি শুরা সদস্য সালাউদ্দিন ওরফে সালেহিন ও আসাদুজ্জামান পনির৻

আসামিদের প্রত্যেককে আদালত একই সঙ্গে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন৻ অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর বাড়তি কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে৻