মজুদবিরোধী আইন সংস্কারের উদ্যোগ

বাংলাদেশে সরকার ১৯৫৩ সালের একটি মজুদবিরোধী আইনের প্রয়োগ আরো জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে৻

Image caption খাদ্যের মজুদ অনেকসময় অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলে মনে করা হয়৻

কোন পণ্য কতদিন এবং কী পরিমাণে মজুদ রাখা যাবে সরকার এই আইনের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হয়েছে৻

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

মজুদবিরোধী আইন বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংশোধন করে পুন:প্রবর্তনের সরকারি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য আজ (বৃহস্পতিবার) একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরাও যোগ দিয়েছেন।

সরকার বলছে চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ আটটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদের ক্ষেত্রে তারা সর্বোচ্চ সময়সীমা বেঁধে দিতে চায়৻ এর মধ্যে চাল ও ডালের ক্ষেত্রে ২০,০০০ টন পর্যন্ত তিন মাস মজুদ রাখা যাবে বলে সরকার প্রস্তাব করেছে৻

খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর জন্যই এ আইন প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলছেন, “বাজার নিয়ে সরকার নির্লিপ্ত থাকতে পারে না, সীমিত আকারে হলেও বাজারে সরকারের ভূমিকা থাকা উচিত।” তিনি বলেন, এর জন্য আইনগত একটা ভিত্তি প্রয়োজন৻

তবে মজুদবিরোধী আইন পুন:প্রবর্তন করা কঠিন কাজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।

তিনি বলছেন মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ১৯৯১ সালে ১৯৫৩ সালের আইনটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। বিস্তারিত কিছু না বললেও ১৯৫৩ সালের আইনটিকে শক্ত আইন বলেই উল্লেখ করছেন খাদ্যমন্ত্রী।

২০০৭ -২০০৮ সালে ত্ত্ত্বাবধায়ক সরকার খাদ্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে মজুদবিরোধী অভিযান শুরু ক‘রে কিছু ব্যবসায়ীকেও আটক করেছিল। তখন সরকার ১৯৫৩ সালের আইনটি পুন:প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল ।

ব্যবসায়ী মহলের প্রতিক্রিয়া

মজুদবিরোধী আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা খুব একটা উৎসাহ দেখাচ্ছে না বলে খাদ্যমন্ত্রী বলছেন।

চট্টগ্রামের একজন শীর্ষ আমদানিকারক আবুল বাশার চৌধুরী আইনের এই প্রস্তাবিত সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেছেন খাদ্যপণ্যের দাম বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল৻

তিনি বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের দেশে মজুদের কোনো বিকল্প নেই৻`

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে কৃত্রিমভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের অবকাশ খুব কম এ মন্তব্য করে তিনি বলেন চাহিদার কথা মাথায় রেখেই ব্যবসায়ীদের খাদ্যশস্য মজুদ করতে হয়৻ কিন্তু দেশের ভেতরে আশাতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন হলে ইতিমধ্যেই মজুদ শস্য নিয়ে তারা কী করবেন, সে বিষয়টাও সরকারের বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন মিঃ চৌধুরী৻

নতুনভাবে এই আইন কার্যকর করার জন্য সরকারকে আরো আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ী মহল৻

সরকারও বলেছে বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তারা বিভিন্ন পক্ষের সাথে আরও আলোচনা করবে।