ঠান্ডায় কাঁপছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
Image caption বাংলাদেশের বড় একটি অংশ জুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে

বাংলাদেশের আবহাওয়া দপ্তর বলছে যে দেশটির বড় একটি অংশ জুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে এবং এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অন্ততঃ আরো একদিন অব্যাহত থাকবে।

বুধবার দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় যাশোরে, সেখানে তাপমাত্রা সাড়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোর বাসিন্দারা বলছেন যে তীব্র শীতের কারণে এসব জায়গায় জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের একটা বড় অংশ এখন কুয়াশার ঘন চাদরে ঢাকা, ফলে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না বেশীরভাগ জায়গায়।

পুরো দেশ জুড়েই তীব্র শীত।

যশোরের বর্তমান তাপমাত্রার চেয়েও কম তাপমাত্রা একবার রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৫০ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী, সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

দেশের সবনিম্ন তাপমাত্রার কাছাকাছি তাপমাত্রা বিরাজ করছে পাবনার ইশ্বরদীতে, ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া দপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম বলছেন যে তীব্র ঠাণ্ডার কারণ হলো কুয়াশার জন্যে সূর্যের তাপ মাটিতে পৌঁছুতে পারছে না।

তিনি বলেন, এর সাথে যোগ হয়েছে সাইবেরিয়া বা এর কাছাকাছি থেকে আসা উত্তর-পশ্চিমের বায়ুপ্রবাহ, যা তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়।

Image caption ঢাকায় গরম থাকার প্রচেষ্টা

মঙ্গলবার এই বায়ুপ্রবাহ নিচে নেমে আসে, একথা জানিয়ে শাহ আলম বলেন যে এর ফলে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলো এবং যশোর ও কুষ্টিয়াতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ প্রভাব বিস্তার করে।

এছাড়া ঢাকা সহ দেশের মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ চলছে বলে তিনি জানান।

যশোরের বাসিন্দারা বলছেন যে তীব্র শীতের কারণে পুরো এলাকা জুড়ে জীবনযাত্রায় অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে।

শার্শা উপজেলার শিববাস গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান সাজু বলছিলেন যে তিনি জীবনে এত ঠাণ্ডা পড়তে দেখেন নি।

তিনি বলেন, শীতের কারণে মানুষজন সোয়েটার-মাফলার খুলতে পারছেন না এবং প্রায় সব বাড়ীতে আগুন জ্বালিয়ে লোকজন হাত-পা গরম করার চেষ্টা করছে, কারণ রোদ পড়ছে না।

শীতের কারণে কৃষকরা মাঠে ফসল বুনতে পারছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোতেও একই অবস্থা। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ বেশী কষ্ট পাচ্ছেন বলে সেখানকার উন্নয়নকর্মীরা বলছেন।

কুড়িগ্রাম অঞ্চলে কাজ করে এমন একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন জীবিকা’র পরিচালক মাণিক চৌধুরী তাঁর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন যে ঠাণ্ডার তীব্রতা বেশী থাকার কারণে সাধারণ মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ।

বিষয়টি ব্যাখা করে তিনি বলেন যে বিশেষ করে শীত মোকাবেলা করার জন্যে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের যে ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার, তা তাদের নেই। ফলে শীতের তীব্রতা তাঁরা বেশী টের পাচ্ছেন।

মিঃ চৌধুরী বলেন, কনকনে ঠাণ্ডার কারণে কৃষিরও ক্ষতি হচ্ছে। অন্য কোন উপায় না থাকার কারণে মানুষজন এই ঠাণ্ডার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে।

“আমি বলবো, গত কয়েক বছরে আমরা এধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হই নি।“

আবহাওয়া দপ্তরের উপপরিচালক শাহ আলম মনে করেন যে শুক্রবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, এদিন থেকে তাপমাত্রা বাড়বে, কিন্তু শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি চলে যেতে আরো তিনদিন সময় লাগবে।

আর চলতি মাসের শেষের দিকে দীর্ঘ আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ আসবে বলে তিনি জানান।

তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা শুরু করার পর বাংলাদেশে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৬৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী শ্রীমঙ্গলে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।