কর্নেল তাহেরের বিচার অবৈধ: হাইকোর্ট

কর্নেল তাহের
Image caption কর্নেল তাহের

বাংলাদেশে সাড়ে তিন দশক পর সামরিক আদালতে কর্ণেল আবু তাহেরের বিচারকে অবৈধ বলে ঘোষনা করেছে হাইকোর্ট।

ঐ বিচারকে বাতিল করে হাইকোর্ট বলেছে, সামরিক আদালত গঠন এবং ঐ বিচার কার্যক্রমের সবকিছুই অবৈধ এবং সংবিধান পরিপন্থী।

১৯৭৬ সালের জুলাই মাসে সামরিক আদালতে বিচার করে কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রিট মামলায় হাইকোর্টে রায় হলো।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহেরের সামরিক আদালতে গোপন বিচার বাতিল করে দিয়ে হাইকোর্ট ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে।

একই সাথে আদালত কর্নেল তাহেরকে শহীদ হিসাবে মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ঐ বিচারে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ও এসেছে আদালতের রায়ে।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেছেন, সামরিক আদালতে বিচারের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখার জন্য আদালত সরকারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে।

মি: রহমান বলেছেন, ঘটনাটিকে যে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলা হয়েছে, সেখানে মুল পরিকলাপনাকারী হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছে আদালত।

একই সাথে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে তা টিকিয়ে রাখতে সামরিক আইনের আওতায় এসব ঘটনা ঘটিয়েছিল।

অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল এম কে রহমান আরও জানিয়েছেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনার সাথেও জিয়াউর রহমান যুক্ত ছিলেন, এমন পর্যবেক্ষণও উঠে এসেছে আদালতের এই রায়ে।

ফলে কর্ণেল তাহেরের সামরিক আদালতে বিচারের এ সব প্রক্ষাপটসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতেই হাইকোর্ট তদন্ত কমিটি গঠনের কথা বলেছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনার পর সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান পাল্টা অভ্যুত্থান চলে।

সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৭৬ সালে জুলাই মাসে কর্নেল তাহেরসহ ১৭ জনকে সামরিক আদালতে গোপন বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছিল।

বিচারের কয়েকদিন পরই সেসময় ২১ শে জুলাই কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেছেন, সামরিক আদালতের বিচারের ঘটনার ক্ষেত্রে একটা প্রেক্ষাপট রয়েছে, সে কারণেই আদালতের এই রায়ে অন্য বিষয়গুলো এসেছে এবং তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঐ ঘটনার পঁয়ত্রিশ বছর পর এসে চারটি রিট মামলা করা হয়েছিল। যে রিট মামলাতেই আদালতেই এই রায় হলো।

রিট মামলাগুলো করেছিলেন কর্নেল তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের এবং তার ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেনসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা।

তাদের পাশাপাশি জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুসহ পাঁচজন রিট মামলা করেছিলেন, তাদেরও ওই সামরিক আদালতে বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল।

রিট আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, যদি্ও কর্ণেল তাহেরর ফাসি হয়ে গেছে, কিন্তু এখন হাইকোর্টের রায়ের ফলে তিনি দেশদ্রোহিতার অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন।

এছাড়াও ঐ সামরিক আদালতে যাদের সাজা হয়েছিল, তারাও অভিযোগ এবং দণ্ড থেকে মুক্ত হলেন।

একইসাথে সামরিক আদালতে ঐ বিচারটি আইনসম্মত ছিল না ,যা আদালতের রায়ে প্রমানিত হয়েছে বলে ড: শাহদীন মালিক মন্তব্য করেছেন।

এই রিট মামলায় রায় দেওয়ার আগে হাইকোর্ট আটজন এমিকাস কিউরি নিয়োগ করে তাদের বক্তব্য নিয়েছে।

এছাড়া সে সময় ঘটনার সংবাদ তুলে ধরেছিলেন, এমন একজন বিদেশী সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদেরও বক্তব্য শুনেছে আদালত।