ৠাব খুনি বাহিনী : হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ

বাংলাদেশের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ দেখালেও সম্ভবত এই প্রথম খোলাখুলি বলা হলো ৠাব সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে৻

ছবির কপিরাইট BBC World Service

হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের রিপোর্টে ৠাবকে `খুনি বাহিনী‘ বলে আখ্যায়িত করে ছয়মাসের মধ্যে এই বাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার আনার দাবী করা হয়েছে৻ না পারলে, ৠাবকে বিলুপ্ত করার জন্য বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৻

একইসাথে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও অষ্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থা৻

তবে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করেছেন৻

মন্ত্রী বিবিসি বাংলার আকবর হোসেনকে বলেছেন, এই সরকারের সময়ে অর্থাৎ গত দুবছর পাঁচ মাসে ৠাবের অভিযানে ৯১ জন মারা গেছে, এবং প্রতিটি ঘটনাই সরকার তদন্ত করেছে৻ মন্ত্রী বলেন, `একটি ঘটনাও বিচার বহি্র্ভূত হত্যা ছিলো না৻‘

মন্ত্রী দাবী করেন, নিহতদের সবাই ছিলো সন্ত্রাসী এবং ৠাবের সাথে গোলাগুলিতে তারা মারা গেছে৻

হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৠাবের হাতে ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে যা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম নয়৻

৫৩ পৃষ্টার দীর্ঘ রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছিলেন সংস্থার এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রায়ান অ্যাডামস্‌ এবং দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান মিনাক্ষি গাঙ্গুলি৻

হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের রিপোর্টটিতে ৠাবের কর্মকান্ড প্রসঙ্গে কঠোর ভাষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে৻

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ৠাবের বিচার বহির্ভূত হত্যা ও তাদের হাতে নির্যাতন বন্ধের যে প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের আগে ও পরে আওয়ামী লীগ দিয়েছিলো, তা পুরণে তারা ব্যার্থ হয়েছে৻

হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মিনাক্ষি গাঙ্গুলি মন্তব্য করেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় ৠাব সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে৻

`যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একের পর এক প্রতিশ্রুতি সত্বেও ৠাবকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছেনা, তখন এই সন্দেহ হতেই পারে যে ৠাব সরকারের কথা শুনছে না৻‘

তবে ৠাবের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৻

সেনাবাহিনী থেকে সদস্য নেয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন৻ তারা বলেন, সেনাবাহিনী কখনই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারেনা৻

সন্ত্রাস ও অপরাধ মোকাবেলায় ৠাবকে ভেঙ্গে দিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরে নতুন একটি বাহিনী গঠনের সুপারিশ করেছে হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ৻

ৠাবের পক্ষ থেকেও এই রিপোর্টের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে৻

এই বাহিনীর মুখপাত্র কম্যান্ডার এম সোয়াহেল বিবিসিকে বলেছেন, এই রিপোর্ট একপেশে৻ `হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ শুধু অপরাধীদের সাথেই কথা বলেছে, আমাদের কোন বক্তব্য নেয়া হয়নি৻‘

গুরুতর অপরাধ মোকাবেলার যুক্তিতে ২০০৪ সালে বাংলাদেশে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে ৠাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা ৠাব গঠন করা হয়৻

শুরু থেকেই কালো পোশাক আর মাথায় কালো ফেটি বাঁধা এই বাহিনীর সদস্যরা একইসাথে নিন্দিত ও নন্দিত হয়ে আসছেন৻

গুরুতর অপরাধী, বিশেষ করে ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে ৠাবের প্রশংসা শোনা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যার ক্রমাগত অভিযোগ উঠেছে৻ মানবাধিকার বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে ২০০৪ থেকে এ পর্যন্ত ৠাবের অভিযানে সাতশরও বেশি লোক মারা গেছে৻