চলে গেলেন আজম খান

আজম খান ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption কনসার্টে আজম খান

বাংলাদেশের সংগীত জগতে পপগুরু নামে পরিচিত আজম খান মারা গেছেন৻

রাজধানী ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৻

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন৻ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।

১৯৭৪-৭৫ সালে একটি গান বাংলাদেশের সঙ্গীতপ্রেমীদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের হৃদয় জয় করে নেয়, সেটি হচ্ছে আজম খানের গাওয়া গান ‘হায় রে বাংলাদেশ’।

রেললাইনের পাশে বস্তিতে কোন এক ছেলের মৃত্যুতে তার মায়ের কান্না নাড়া দিয়েছিল আজম খানকে। তা থেকেই এই গানের জন্ম৻

কিংবদন্তির মত এই শিল্পীর জন্য এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া এ শিল্পীর দেশের প্রতি ছিল অকৃত্রিম টান। আর সেই টানেই তিনি গান গেয়েছেন সাধারণ মানুষের জন্য, দেশের জন্য।

তাঁর গান ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে। আর তৈরী হয়েছে তার কোটি-কোটি ভক্ত।

তাঁর গানের সহজ ভাষা এবং মানুষকে স্পর্শ করার ক্ষমতার কারণে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, এমনকি গ্রামের মানুষের কাছেও তার গান জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এমনটাই বলছিলেন তার ভক্তরা।

১৯৫০ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আজম খান।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি ঢাকায় বেশ কয়েকটি গেরিলা অভিযানে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর গঠন করেন পপ ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আজম খানের নতুন ঘরানার সঙ্গীত তরুণ প্রজন্মের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়৻

ছবির কপিরাইট no credit
Image caption তাঁর গান সাধারণ মানুষের জন্য, দেশের জন্য৻

অথচ এত খ্যাতি এত ভক্ত থাকা সত্ত্বেও আজম খান ছিলেন সহজ-সরল জীবন-যাপনে অভ্যস্ত। সবার সাথেই ছিল তাঁর সহজ ব্যবহার। এমনটাই বলছিলেন তাকে কাছে থেকে দেখা একজন ভক্ত ইফতেখার হোসেন।

“ আমি যখন কলেজে পড়েছি, তখন দেখেছি তিনি আমাদের সাথে এসে ফুটবল খেলতেন। এমনকি ঢাকা স্টেডিয়ামে তিনি আমাদের সাঁতারও শিখিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের পপসম্রাট এবং সাধারন মানুষের মনের সম্রাট হিসেবেই তিনি থাকবেন।”

আজম খানের প্রথম কনসার্ট প্রচারিত হয় ১৯৭২ সালে, বাংলাদেশ টেলিভিশনে। আর এর মাধ্যমেই ব্যান্ড সঙ্গীত পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের কাছে।

স্বাধীনতার পরে তাঁকে বাংলাদেশে ব্যান্ড সঙ্গীতের বিকাশের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়৻ পরবর্তী বেশ কয়েকটি প্রজন্মের শিল্পীদের উপর তাঁর গভীর প্রভাব রয়েছে বলে বলছিলেন আরেক বিখ্যাত ব্যান্ড শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু।

“আমার তো বটেই, আমার সমসাময়িক এবং আমার আগের একটি প্রজন্ম এবং আমার পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই এখনো আজম ভাই দ্বারা অনুপ্রাণিত। এখনো যাদের নিজের গান হয়নি, মঞ্চে তাদের এখনো আজম ভাই-এর গান গাইতে হয়। আর আমরাও আজম ভাই-এর গান দিয়েই কেরিয়ার শুরু করেছিলাম।”

আজম খানের সাদামাটা জীবনধারা নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু বলছিলেন, “লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে দেখেছি উনাকে। আমাদের প্রতি তিনি সব সময় স্নেহপরায়ণ ছিলেন। তখন যদি আজম ভাই সালেকা-মালেকা না গাইতেন তবে এখনো হয়তো আমাদের ইংরেজি গানই গাইতে হতো। বাংলা গান আর গাওয়া হতো না।”

সালেকা-মালেকা এবং আলাল-দুলালদের মতো সাধারণ মানুষদের নিয়ে গান আর আড়ম্বরহীন জীবন তাকে নিয়ে গেছে সাধারণ মানুষের বুকের গভীরে৻ আর সেকারণেই বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজম খানের উপাধি, ‘পপগুরু‘।