ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতন

মইন ইউ আহমেদ
Image caption মইন ইউ আহমেদ

বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর হাতে ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনের বিষয়ে সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ মঙ্গলবার টেলিফোনে সংসদীয় কমিটির কাছে ঐ ঘটনাগুলির ব্যাপারে তাঁর দায় অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, নির্যাতনের ঘটনাগুলিকে ঘিরে সেসময় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল সে বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেনাবাহিনী তা-ই বাস্তবায়ন করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি উপকমিটি ২০০৭ সালে ছাত্র-সেনা সংঘর্ষ ও নির্যাতনের অভিযোগগুলো এখন তদন্ত করছে।

এবিষয়ে এই কমিটি প্রথমবারের মতো টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে কারো সাক্ষ্য গ্রহণ করলো।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জেনারেল মইন প্রায় ৫০ মিনিট ধরে চার সদস্যের উপ-কমিটির সাথে কথা বলেন।

২০০৭ সালের অগাষ্ট মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ছাত্র-সেনা সংঘর্ষের পর শিক্ষক ও ছাত্রদের নির্যাতনের জন্য প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এই অভিযোগ এবং সে সময় বিভিন্ন দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন সেনাপ্রধান হিসেবে জেনারেল মইন ইউ আহমেদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করে সংসদীয় কমিটি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই সংসদীয় কমিটির প্রধান রাশেদ খান মেনন জানিয়েছেন, জেনারেল মইন নিজে সব দায় এড়িয়ে তা চাপিয়েছেন সেই সময়কার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর।

তিনি বলেন, তাদের প্রশ্নে জেনারেল মইন ইউ আহমেদের বক্তব্য ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলী বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং সেনা বাহিনীর নিম্ন পর্যায়ের কিছু লোক তা বাস্তবায়ন করেছিল।

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption ২০০৭ সালের ছাত্র বিক্ষোভ

বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য তখন সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি সেটুকুই পালন করেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতনের ব্যাপারে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তার জবাবে মি. আহমেদ বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাহলে সে সময় সেনাবাহিনীর চেইন অফ কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছিল কীনা, সংসদীয় কমিটির এই প্রশ্নের জবাবে সাবেক সেনাপ্রধাণ জানান, চেইন অফ কমান্ড ঠিকই বজায় ছিল।

তবে সংদীয় কমিটির সব প্রশ্নই তিনি এড়িয়ে গেছেন বলে রাশেদ খান মেনন মনে করছেন।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রভাবশালী একজন উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বলেন, ''যে পরিস্থিতিতে সে সময় তত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল সেটি ছিল যৌথ সরকার । সশ্রস্ত্র বাহিনী এবং আমরা যৌথভাবে কাজ করেছি, যাতে সামরিক শাসন না আসে।''

''সেই হিসেবে যদি জেনারেল মইন বলে থাকেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারই সব করেছে, সেই অর্থে ঐ বক্তব্য সঠিক বলা যেতে পারে। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে আর্মির একজন অফিসারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে। তখন শিক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেনাবাহিনীর সাথে মিলে কাজগুলো করেছে।''

সুতরাং তত্ত্বা্বধায়ক সরকারই এককভাবে বিষয়টা দেখেছিল, এবং সামরিক বাহিনীর কোন দায় দায়িত্ব ছিল না, এমন কথা বলা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন মইনুল হোসেন।

সংসদীয় কমিটি আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সাথে কথা বলে যে বক্তব্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতে এখন কমিটি তাদের প্রতিবেদন তৈরি করবে, যা সংসদে উত্থাপন করা হবে।