ঢাকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর ৠালি

হিজড়া জনগোষ্ঠীর র‍্যালি ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption অধিকারের দাবিতে ঢাকায় প্রথমবারের মত হিজড়া জনগোষ্ঠীর র‍্যালি

বাংলাদেশে হিজড়া জনগোষ্ঠির আইনগত অধিকারের দাবি তুলে ধরতে এবং অন্যদিকে তাদের সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর একটি ৠালি আয়োজন করেছিলেন দেশটির সরকারি কিছু কর্মকর্তা।

আয়োজকরা বলছেন জন্মগতভাবে লিঙ্গ বৈকল্যের শিকার এই জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল ধারায় অন্তভূর্ক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়েই তাদের এই প্রচেষ্টা।

আয়োজকদের দলনেতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ সচিব এস এম এবাদুর রহমান বলেন হিজড়া জনগোষ্ঠী সম্পর্কে সমাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা দূর করা কঠিন হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন ।

আয়োজকরা বলছেন তারা এই উদ্যোগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যেসব সুপারিশ করবেন সেগুলি সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মত হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রকাশ্য ৠালিতে নানাধরনের পোষ্টার ব্যানার নিয়ে সকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন হিজড়া সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকশ জন।

শহরাঞ্চলে তারা যখন রাস্তায় দল বেঁধে চলেন তখন তাদের দেখে অনেকে ভয় পান আবার অনেকে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেন।

আজ শুক্রবার সেই হিজড়া জনগোষ্ঠী রাস্তায় নেমেছিলেন তাদের অধিকারের দাবিতে ।

এদেরই একজন মুন্নি বলছিলেন, “আমাদের হিজড়াদের তো ডাষ্টবিনের ময়লার মতো মনে করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা যদি সমাজে বাস করতে পারি তাহলে দোষ কি?”

ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption র‍্যালিতে গান গেয়ে তাদের অধিকারের দাবি তুলে ধরেন হিজড়া জনগোষ্ঠী

শুধু রাস্তায় অনেক সময় অবজ্ঞা কিংবা অবহেলা নয়, এই হিজড়া জনগোষ্ঠী তাদের পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন ।

সমাজে লোকলজ্জার কারণে পরিবারগুলোও তাদের হিজড়া সন্তানকে ঠেলে দেন রাস্তার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

রাস্তাঘাটে হাত পেতে কিংবা বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দুএকটাকা আদায় করেই হিজড়াদের জীবন চলে।

পরিবার কিংবা সমাজ কোথাও তাদের ঠাঁই নেই বলছিলেন তারা।

ৠালিতে অংশ নেয়া একজন হিজড়া গোপী বলছিলেন ১২ বছর বয়সে তার মা-বাবা তাকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে হিজড়াদের কাছে ঠেলে দেয়।

“সমাজ আমাদের মেনে নেয়না । আমার জন্য অন্য ভাই-বোনরাও সমাজে মুখ দেখাতে পারে নাই ,” বলছিলেন গোপী।

র‍্যালি যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তখন গান গেয়ে হিজড়ারা তাদের জন্য আইনগত স্বীকৃতির দাবি তুলে ধরেন জোরেসোরে।

তাদের ভোটাধিকার নেই , সম্পত্তিতে কোন অধিকার নেই, কোথাও গ্রহণযোগ্যতা নেই ।

কেন তারা অন্যদের মতো আইনগত অধিকার পাবেন না ? কেন তাদের জীবন অবজ্ঞা আর অবহেলায় কাটবে? এমন প্রশ্নেই সোচ্চার ছিলেন হিজড়া সম্প্রদায়।

বেশ কয়েকশ হিজড়ার পাশাপাশি অন্য অনেকে এসেছিলেন এই ৠালিতে যোগ দিতে ।

তাদের একজন সিদ্দিকুর রহমান। বলছিলেন নিজের মনের তাগিদেই তিনি এখানে এসেছেন।

যে হিজড়া সম্প্রদায়কে দেখে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন আজ তাদের সাথেই ৠালিতে বহু মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এদের মধ্যে ছিলেন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, এবং বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থার লোকজন।

ৠালিতে যোগ দেয়া সীমা বিশ্বাস বলছিলেন তিনি হিজড়া সম্প্রদায়কে আজ নতুন করে বুঝতে শিখেছেন।

সীমা বলেন, “আগে আমি হিজড়াদের দেখে ভয় পেতাম। কিন্তু আজ বুঝলাম আমরা যদি তাদের সহযোগিতা করি তাহলে তারাও আমাদের মতোই সমাজে থাকতে পারবে। ”

আয়োজকদের দলনেতা এবাদুর রহমান বলেন হিজড়া জনগোষ্ঠি সম্পর্কে সমাজের যে দৃষ্ঠিভঙ্গি সেটি দূর করা কঠিন হলেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাবেন ।

এই উদ্যোগ তার সূচনা বলে উল্লেখ করেন মি: রহমান।

“ আজ আমরা শুরু করলাম। হয়ত বিশ বছর পরে দেখবেন হিজড়া সম্প্রদায় থেকে কেউ এমপি হয়েছেন, কেউ মন্ত্রী হয়েছেন কিংবা সরকারি চাকুরীতে তাদের কোটাও হবে, ” বলেন মি: রহমান।

আয়োজকরা বলছেন তারা এ উদ্যোগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যেসব সুপারিশ করবেন সেগুলো সরকার বাস্তবায়ন করবে বলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আশ্বস্ত করেছেন।