চলে গেলেন আব্দুর রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক
Image caption আব্দুর রাজ্জাক

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুর রাজ্জাক শুক্রবার মারা গেছেন।

কিডনি এবং লিভারের জটিলতা নিয়ে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে গত তিন মাস ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শেষ ক’দিন বর্ষীয়ান এই নেতাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও ডাক্তাররা সেটি খুলে দেন এবং শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩:৫০ মিনিটে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মি. রাজ্জাকের স্ত্রী, দুই পুত্র, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনেকেই এসময় উপস্থিত ছিলেন।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট প্রদানের পর তারা শুক্রবার ব্রিকলেন মসজিদে মি. রাজ্জাকের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

এর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।

বাংলাদেশে শোক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে মি. রাজ্জাকের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেছেন, তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন অন্ত:প্রাণ রাজনীতিবিদ এবং বঙ্গবন্ধুর একজন অনুসারীকে হারালো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

মানুষের ‘ভাত এবং ভোটের’ অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Image caption শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আব্দুর রাজ্জাকের ছিল অন্যতম ভূমিকা

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া তাঁর শোকবার্তায় বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য আব্দুর রাজ্জাক যে অবদান রেখেছেন তা জাতি কোনদিন ভুলবে না।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, মি. রাজ্জাক তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে একজন দক্ষ এবং প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

পাকিস্তান আমলে ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনে আব্দুর রাজ্জাক অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। এসময় দীর্ঘদিন তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যে ক'জন যুবনেতা ‘চার খলিফা’ নামে সুপরিচিত ছিলেন, মি. রাজ্জাক ছিলেন তাদের অন্যতম।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনী নামে পরিচিত বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের রূপকার।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পর আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

১৯৯০-এর দশকে বাকশাল নামে গঠিত তাঁর উপদলটি আওয়ামী লীগের মূলধারার সাথে মিলে যায়।

একই দশকের গোড়াতে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ব্যানারে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে গণ আন্দোলন শুরু হয় সে আন্দোলনে আব্দুর রাজ্জাক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

আওয়ামী লীগে ফেরার পর মি. রাজ্জাক সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান পান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মি. রাজ্জাক ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি সই করেন। ১/১১ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের যে ক’জন নেতা সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান, তার মধ্যে মি. রাজ্জাকও ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এলেও ২০০৯ সালের দলের সম্মেলনে সভাপতিমন্ডলী থেকে বাদ দিয়ে তাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।