চীনে অধিকাংশ লোকই শহরবাসী

china city ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption চীনে এখন শহরবাসীর সংখ্যাই বেশি

চীনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো শহরে বাস করে এমন লোকের সংখ্যা গ্রামে বসবাসকারী লোকের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে৻

দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর কমিশনার মা জিয়ান তাং বলছেন, শহরে বাস করে এমন লোকের সংখ্যা বেড়ে ৫১ দশমিক ২৭ শতাংশে পৌছেছে৻

এর ফলে এই প্রথম বারের মতো চীনে নাগরিক জনসংখ্যা ৫০ শতাংশের ওপরে উঠলো৻ এটা গত বছরের চাইতে এক দশমিক তিন দুই শতাংশ বেশি৻

চীনকে ঐতিহাসিকভাবেই দেখা হতো একটি গ্রামীণ কৃষিপ্রধান সমাজ হিসেবে৻ কিন্তু চীনে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু হওয়ার পর থেকে গত তিন দশকে সে পরিস্থিতি আমূল বদলে যাচ্ছে৻ চীনের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির সুবিধা পাবার জন্যে অসংখ্য মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসতে থাকায় চীনের বিশাল জনগোষ্ঠীর ভেতরে শুরু হয়েছে ঠিকানা বদলের প্রক্রিয়া৻

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সাংহাই

২০১১ সালে আরো ২ কোটি ১০ লাখ লোক শহরে বাস করতে এসেছে এবং এদের একটি বড় অংশ হচ্ছে অভিবাসী শ্রমিক৻

চীনে এখন গ্রামে বাস করছে এমন লোকের সংখ্যা ৬৫ কোটি ৬৬ লাখ৻ তাদের তুলনায় চীনে শহরবাসী লোকের সংখ্যা যে বেড়ে গেছে তা অবশ্য বিস্ময়ের কোন ব্যাপার নয়৻ চীনে আদমশুমারি হয় প্রতি দশ বছরে এক বার৻

২০১১ সালেল এপ্রিলে যখন চীনের সবশেষ আদমশুমারির রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়, তখনই শহরবাসী মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধির নাটকীয় পরিসংখ্যান বেরিয়ে এসেছিল৻ তাতে বলা হয় যে এক দশকে চীনের শহরগুলোয় লোক সংখ্যা ১৪ শতাংশ বেড়েছে৻ এদের অধিকাংশই শ্রমিক, যারা চীনের কারখানাগুলো এবং উপকূলীয় শিল্প এলাকাগুলোয় কাজ করে৻

ছবির কপিরাইট AFP

বিবিসির মাইকেল ব্রিস্টো বেইজিং থেকে জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে চীনের অর্থনীতির উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ কৃষিকাজ ছেড়ে কলকারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে৻ চীনের সরকার মানুষের এই অভিবাসনকে স্বাগত জানিয়েছে ঠিকই - কিন্তু সবসময় যে এটা নির্বিঘ্নে ঘটেছে তা নয়৻ গ্রামের লোকেরা তাদের শহরের বাড়িতে এসে প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে – তারা অনেকেই হাসপাতাল আর স্কুলের মতো সেবা পায় না৻ অনেক বড় শহর আবার সেখানে থাকতে আসা লোকের সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করছে৻ কিন্তু নগরায়নের এই প্রক্রিয়া থামবে না বলেই মনে করছেন মাইকেল ব্রিস্টো৻

তবে চীনের অর্থনীতি এখন কিছুটা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, কারণ প্রবৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে৻ গত দু বছর ধরেই আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার কমছে৻ এর পেছনে অভ্যন্তরীণ কারণ ছাড়াও আরো যা কাজ করছে তা হলো ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থখাতে সংকটের জন্য চাহিদা কমতে থাকায় চীনের রপ্তানিতে মন্দা দেখা দিয়েছে৻

মা জিয়ান তাং বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নেতিবাচক থাকায় আগামি মাসগুলোতেও প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি চলতে থাকবে, চীনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে ২০১২ সালে অনিশ্চয়তা এবং সমস্যাও বাড়বে৻ তিনি বলছেন, সেজন্যই আমাদের ২০১২ সালে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে, এবং তা মোকাবিলার ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে৻

তবে চীনা অর্থনীতির একেবারে সবশেষ পরিসংখ্যান যাই বলুক , বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নগরায়নের স্রোত থামবে না৻ আগামি দু দশকের মধ্যে চীনের জনসংখ্যার তিন চতুর্থাংশই শহরে বাস করবে, এবং সেটা হবে নগর-পরিকল্পনাবিদদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ - কিভাবে শহরবাসী এত মানুষের প্রয়োজন মেটানো হবে ৻

চীনা শিক্ষাবিদরা এর মধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যে মানুষের নগরমুখী হবার এ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন নীতি গ্রহণ করা হোক, যার মধ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য উন্নত সামাজিক কল্যাণসুবিধার ব্যবস্থাও থাকতে হবে৻