সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

বিএনপি সমাবেশ ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption নয়াপল্টনে বিএনপির জনসমাবেশ

বাংলাদেশে সরকারের বিরোধী জোটের 'ঢাকা চলো' কর্মসূচি কোন সহিংসতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

ঢাকায় নয়া পল্টন এলাকায় বিশাল এক সমাবেশে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া এই কর্মসূচিতে সরকারের বাধা দেয়া প্রতিবাদে ২৯ শে মার্চ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছেন।

সরকারের বিভিন্ন বাধার মুখে ঢাকায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মহাসমাবেশে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষুব্ধ মনোভাব ছিলো। তবে সমাবেশ হয়েছে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া হরতালের পাশাপাশি সরকারকে একটা সময় বেঁধে দিয়েছেন। এই মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে হরতাল ডাকা হয়েছে ২৯শে মার্চ।

আর তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুর্নবহালের মূল দাবির ব্যাপারে সরকারকে সময় দেওয়া হয়েছে ১০ই জুন পর্যন্ত। এরপর ১১ই জুন আবার ঢাকায় সমাবেশ দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘১০ই জুনের মধ্যে সরকারকে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুর্নবহাল করে তার অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে ১১ই জুনের সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption বিএনপির পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া

বিএনপি নেত্রীর ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল সরকারের সমালোচনা। একইসাথে তিনি বেশ কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেছেন।

অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন এলডিপিসহ ছোট কয়েকটি দলকে নিয়ে চারদলীয় জোটকে সম্প্রসারণের ঘোষণাও দিয়েছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে এবং আন্দোলন এগিয়ে নিতে জোট সম্প্রসারণ করা হলো।

জোটে বেশ কয়েকটি দল থাকলেও সমাবেশে মূলত বিএনপি এবং এরপরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক থাকা জামায়াতের নেতাদের মুক্তির দাবিতে ফেস্টুন ব্যানার নিয়ে এবং শ্লোগান দিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

দুপুর দুইটা থেকে সমাবেশ শুরু হবার কথা থাকলেও তার আগেই নয়া-পল্টনসহ আশেপাশের এলাকায় জড়ো হন বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী। নিজ দলের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে আসা এসব নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হন সমাবেশস্থলে।

সহিংসতা হতে পারে এই আতঙ্কে রাজধানী ঢাকার চেহারা ছিল হরতালের দিনের মত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু অফিস আদালত অঘোষিতভাবে বন্ধ ছিল। যানবাহন বলতে গেলে চলেনি, দোকান পাটও তেমন খোলেনি।

বিএনপির এই সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয় নি বলে বলেছেন বিএনপি নেতারা।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption মিরপুর টার্মিনাস থেকে বাসগুলো ছাড়ে নি

বিরোধী দলের ১২ই মার্চের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রোববার থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ঢাকার সাথে অন্যান্য জেলার বাস, লঞ্চ এবং ফেরি যোগাযোগ।

বিএনপি অভিযোগ করে আসছিল ,তাদের নেতা-কর্মীদের ঢাকায় আসার পথে বাধা দেয়ার উদ্দেশ্যেই সরকারের নির্দেশে সড়ক এবং নদীপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঢাকার প্রায় সবগুলো আবাসিক হোটেলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলছিলেন, ঢাকায় আসার জন্য তাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে তাদের অনেককে পায়ে হেঁটে ,রিক্সায় করে ,ট্রেনে বা বিভিন্নভাবে ঢাকা আসতে হয়েছে।

এদিকে হরতালের দিন না হলেও বিরোধী দলের এই সমাবেশকে ঘিরে ঢাকায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা সাম্প্রতিককালে কোন হরতালের দিনেও দেখা যায়নি।

ঢাকার আভ্যন্তরীন রুটের বাস চলাচল প্রায় পুরোপুরিই বন্ধ ছিল। ব্যক্তিগত যানবাহন এবং সিএনজি অটোরিক্সার চলাচলও ছিল খুবই কম। বন্ধ ছিল অধিকাংশ দোকানপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কোন ঘোষণা না থাকলেও বন্ধ ছিল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছিল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ছিল সরব উপস্থিতি।

বিরোধী দলের সমাবেশকে ঘিরে ঢাকার এ পরিস্থিতিকে ঢাকার অনেক বাসিন্দারাও নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করছেন।

তবে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় বড় ধরনের কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি। দু’একটি জায়গায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বা বিরোধী দলের মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।