২১শে অগাস্ট মামলায় তারেক অভিযুক্ত

তারেক রহমান ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption তারেক রহমান

বাংলাদেশে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে একং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ঐ হামলার পরিকল্পনা, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করার মাধ্যমে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এই মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

রোববার মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৮ মার্চ এ বিষয়ে সাক্ষ্য নেয়ার দিন ঠিক করেছে ঐ হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুই মামলার বিচারে গঠিত ঢাকার একটি বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত।

তবে এই মামলায় আটক বিএনপির কয়েকজন নেতার পক্ষের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এই অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করে একে সরকারের রাজনৈতিক আক্রমণ বলে মন্তব্য করেছেন।

এই মামলায় আগে থেকেই অভিযুক্ত আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফূজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা।

তিন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক, আশরাফুল হুদা এবং খোদ বক্স চৌধুরীও এই মামলায় অভিযুক্ত।

এবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ বেশ ক'জন নতুন করে অন্তর্ভূক্ত হলেন।

তাদের সাথে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দারসহ বেশ ক'জন সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা রয়েছেন।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption গ্রেনেড হামলার শিকার

এই মামলায় মোট আসামি সংখ্যা দাড়ালো ৫২ জন। এর মধ্যে ১৯ জনই বর্তমানে পলাতক এবং একজন জামিনে রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলি জানান, দুটো মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়।

তবে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, সরকারি হস্তক্ষেপে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি নিরপক্ষে আইনজীবী দেয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ১৬৪ ধারায় দেয়া জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানের জবানবন্দি যার ভিত্তিতে তারেক রহমান সহ আরো ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয় তা পরে মুফতি হান্নান প্রত্যাহারেরও আবেদন জানিয়েছিলেন কিন্তু তা শোনা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ কয়েকশ' ব্যক্তি।

এরপর ২০০৮ সালে জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করে সিআইডি এই মামলায় প্রথম অভিযোগপত্র দেয়।

পরে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় এলে অধিকতর তদন্ত করা হয় এবং গত বছরের ৩ জুলাই সিআইডি তারেক রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র পেশ করে।