বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ ঋণ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল
Image caption আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ৯৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন বিভিন্ন শর্ত মেনে এই অর্থ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

লেনদেন ভারসাম্য নিয়ে সঙ্কটে থাকা বাংলাদেশ সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ কাছ থেকে এই ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

অবশেষে বৃহস্পতিবার আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদ ৯৮কোটি ৭০ লাখ ডলারের এই ঋণ অনুমোদন করে।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, এবং প্রবৃদ্ধির ধারা আরও শক্তিশালী করার কাজে সহযোগিতা দিতেই বাংলাদেশকে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সার্বিকভাবে এই লেনদেনের ভারসাম্য দেখা দেয়।

কোন্‌ কোন্‌ শর্তে এই ঋণ দিয়েছে আইএমএফ? এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, বিশেষ কোনও শর্ত নেই তবে বাংলাদেশ সরকার বাজেটে সেসব সংস্কারের কথা বলেছেন সেসব শর্তেই এই ঋণ দেওয়া হয়েছে। এবং এই অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ঋণের ফলে বৈদেশিক খাতে লেনদেনের চাপ কমবে, রিজার্ভ বাড়বে এবং ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল হবে ।

এই ঋণের অর্থ তিন বছরের মধ্যে কয়েক ধাপে ছাড় করা হবে, যার প্রথম কিস্তিতে বাংলাদেশ পাবে ১৪ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তুলনায় বিভিন্ন শর্ত মেনে এই অর্থ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মি. রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন শর্ত মেনে আইএমএফের ঋণ শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তাই এবারো সেটা সম্ভব হবে কিনা সেটা এখন দেখার বিষয়।