গ্রিসে সরকার গঠন চেষ্টা ব্যর্থ

ইভানজেলোস ভেনিজেলোস ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption ইভানজেলোস ভেনিজেলোস

গ্রিসের সোশালিষ্ট পার্টির নেতা ইভানজেলোস ভেনিজেলোস সে দেশে একটি নতুন জোট সরকার গঠনের চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছেন।

গ্রিসে গত রোববার নির্বাচনের পর থেকে মি: ভেনিজেলোস হলেন তৃতীয় নেতা যিনি একটি জোট সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়েছেন।

মি: ভেনিজেলোস বলছেন তিনি এখন প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করবেন এবং পুনরায় যাতে নির্বাচন করতে না হয় সেজন্য শেষ চেষ্টা চালাবেন।

সরকার গঠনের ব্যাপারে মি: ভেনিজেলোস বিভিন্ন দলের সাথে যে আলাপ-আলোচনা চালিয়েছিলেন সেটি ব্যর্থ হয়েছে।

গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য সাহায্য পেতে হলে বাজেটে কাটছাট করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএমএফ যে শর্ত দিয়েছে সেটি নিয়ে গ্রিসে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে।

গ্রিসের ঋণ সংকট এমন একটি অবস্থায় পৌছেঁছে যে দেশটির এখন দেউলিয়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে এবং একই সাথে তারা ইউরোজোন থেকেও ছিটকে পড়বে।

গতকাল গ্রিসের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সরকার গঠনের প্রশ্নে আলোচনার পর মি: ভেনিজেলোস বলেন ডেমোক্রেটিক লেফট পার্টির নেতা এলেক্সি সিপরাস দেশের স্বার্থের চেয়ে তাদের ব্যক্তিস্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

মি: ভেনিজেলোস বলেন, দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে ঔদ্ধত্য এবং ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থের কারণে দ্বিতীয়বার নির্বাচন ঠিক হবে না।

যদি আবার নির্বাচন হয়েও থাকে তাহলে কী পরিবর্তন হবে? তিনি প্রশ্ন করেন। তিনি বলেন প্রেসিডেন্টর সাথে আলোচনায় সবাই দায়িত্বশীল হবে বলে তিনি আশা করেন।

তবে মি: সিপরাস বলছেন ভিন্ন কথা । ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএমএফ গ্রীসে যে ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের শর্ত দিয়েছে সেটি মানতে পারছেন না মি: সিপরাস।

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption এলেক্সি সিপরাস

মি: সিপরাস বলেন যেখানেই কৃচ্ছতা সাধনের চেষ্টা চালানো হয়েছে সেখানেই সেটি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন স্পেন আজ কোথায়? সেদিকে তাকান।

ইটালিতে কি হচ্ছে? পর্তুগাল এবং ইটালির এবং আয়ারল্যান্ডে ফলাফল কি দাঁড়িয়েছে? কৃচ্ছতা সাধন করে তারা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন মি: সিপরাস।

ধারণা করা হচ্ছে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে রক্ষা করার জন্য প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপ দেবার চেষ্টা করবেন।

তবে এথেন্স থেকে বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন এতে প্রেসিডেন্টের সফল হবার সম্ভাবনা নেই। সরকার গঠন সম্ভব না হলে গ্রীসে আবারও নির্বাচন হবার সম্ভাবনা তৈরী হবে।

গত রোববারের নির্বাচনে দেখা গেছে যেসব রাজনৈতিক দল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আইএমএফ-এর শর্তের বিরুদ্ধে তাদের সমর্থন বেশি। তাছাড়া এই নির্বাচনে বিগত সরকারের ভরাডুবি হয়েছে।

গ্রিসের ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে বিগত ক্ষমতাসীনরা পেয়েছে মাত্র ৪১টি আসন। সোশালিষ্ট পার্টির নেতা মি: ভেনিজেলোস গতকাল নিউ ডেমোক্রসি দলের নেতা এন্টোনি সামারাস এর সাথে কথা বলেছেন।

কিন্তু তাতে কোন সমাধান আসেনি। অবশ্য বিগত ক্ষমতাসীন জোট পাসকক এবং নিউডেমোক্রেসি দলের আসন সংখ্যা ১৪৯টি।

সরকার গঠনের জন্য আরও দুটি আসনের দরকার। কিন্তু জোট সরকারের জন্য তৃতীয় দল পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে গ্রীসে এই রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশটি ইউরোজোনে থাকতে পারবে কিনা সেটি নিয়ে এখন উদ্বেগ তৈরী হয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা বলেছেন গ্রিস যদি তাদের ব্যাপক ব্যয় সংকোচন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার না করে তাহলে দেশটি ইউরোজোনের বাইরে চলে যেতে পারে।

জার্মানীর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ইউরোজোনে গ্রিসের ভবিষ্যত গ্রিসের উপরই নির্ভর করছে।