পশ্চিমবঙ্গে সিঙ্গুর জমি আইন অবৈধ

singur ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ি তৈরির কারাখানার জন্য টাটা গোষ্ঠী জমি অধিগ্রহণ করে

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো গাড়ি কারখানার জমি পুনরায় অধিগ্রহণ করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে আইন করেছিল, তাকে কলকাতা হাইকোর্ট আজ (শুক্রবার) অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে রায় দিয়েছে৻

দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্জ আইনটি খারিজ করে দেওয়ার কথা বললেও দুমাসের জন্য এতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে যাতে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যেতে পারে৻

রায় ঘোষণার পরে সরকার বলেছে যে তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে।

অন্যদিকে টাটা গোষ্ঠী আজকের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে৻

কলকাতা হাইকোর্টের দুই সদস্যবিশিষ্ট ডিভিশন বেঞ্চ তার রায়ে বলেছে যে সিঙ্গুরের টাটা কারখানার জমি পুনরায় অধিগ্রহন করে অনিচ্ছুক কৃষকদের মধ্যে তা বিলি করার জন্য তৈরি আইনটি অসাংবিধানিক৻

কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিচারপতিরা বলেছেন যে রাজ্য সরকারের তৈরি ওই আইনটির কয়েকটি ধারার সঙ্গে ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের বিরোধ আছে৻ কোনও রাজ্য সরকার যদি কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনও আইন তৈরি করে, তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা আর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন৻

এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেইসব অনুমোদন নেয় নি৻ তাই আইনটি অবৈধ বলে রায় দেয় পিনাকী চন্দ্র ঘোষ আর মৃণাল কান্তি চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ৻

রায়ের পরে সরকার পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ও তৃণমূল কংগ্রেস দলের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী মন্তব্য করেন, “হাইকোর্টের এক সদস্য বিশিষ্ট বেঞ্চে আমরা আগে জিতেছি, ডিভিশন বেঞ্চের রায় টাটাদের পক্ষে গেছে৻ ফলাফল এক এক হয়েছে৻ এবার ফাইনাল বাকি রয়েছে৻”

রায় ঘোষণার পরে সরকার জানিয়েছে যে তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে৻

শিল্পমন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী জানান, “জমি দিতে অনিচ্ছুক কৃষকদের পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা লড়াই চালিয়েছেন এখনও তাঁদের পাশেই থাকবেন তাঁরা৻”

অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের কথায়, “মানুষ তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছে৻ জমি ফেরত দিতেই পারেন – তাতে আমাদের আপত্তি ছিল না৻ কিন্তু আমরা বার বার বলেছি যে ইচ্ছুক আর অনিচ্ছুক কৃষকদের মধ্যে ফারাক করা উচিত নয়৻ আরও বলেছিলাম, আইনত রাষ্ট্রপতির সম্মতি দরকার৻ তাও নেওয়া হয় নি৻ আমরা জানতাম যে এই পদ্ধতিতে তৈরি আইন অসাংবিধানিক বলে প্রমাণিত হবে৻”

২০০৬ সালে পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে প্রায় এক হাজার একর জমি টাটা গোষ্ঠীকে দিয়েছিল পৃথিবীর সব থেকে সস্তা গাড়ী ন্যানো-র কারখানা তৈরি করতে৻

জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে৻

শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে টাটা গোষ্ঠী কারখানাটি গুজরাতে সরিয়ে নিয়ে যান৻ কিন্তু কারখানার জন্য নেওয়া জমির স্বত্ত্ব তাঁরা ছাড়েন নি৻

মমতা ব্যানার্জীর দাবি ছিল যেসব কৃষকের জমি তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দিতে হবে৻

গতবছর ক্ষমতায় আসার পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার আইন করে ওই জমিটি টাটাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়৻

টাটা গোষ্ঠী ওই আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেছিল৻ আজ সেই মামলারই রায় ঘোষিত হল৻

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ আইনটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষিত হওয়ায় মমতা ব্যানার্জী এবং তাঁর সরকার এক বড়সড় ধাক্কা খেল কারণ গত কয়েক বছর ধরে তাঁর আন্দোলনগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের বিষয়টি ৻