মানবাধিকার সংস্থার রিপোর্টের প্রতিবাদ

bdr mutiny trial ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়ায় গলদের অভিযোগ এনেছে মানবাধিকার সংস্থা

বাংলাদেশে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর বিদ্রোহের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তাকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় 'আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের' অংশ বলে বর্ণনা করেছে।

এ ধরণের বক্তব্যকে দু:খজনক হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, তাদের প্রতিবেদনের তথ্য বাংলাদেশ সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত।

সংগঠনটি জওয়ানদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিচার স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিল।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এই প্রতিবেদন প্রত্যাখান করা হলেও আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিযেছে।

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছিল কয়েকদিন ধরে।

সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি পৃথক পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেছে, যেখানে মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবির কপিরাইট bbc
Image caption মীনাক্ষী গাঙ্গুলি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের অংশ হিসেবে বর্ননা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের এ ধরণের বক্তব্য দেওয়া বা অবস্থান নেওয়ার বিষয়কে তারা দু:খজনক বলে মনে করেন।

‘আমরা শুধু বলতে চাই, খুবই সম্প্রতি সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে দুই প্রধান দলের দু’জন নেত্র্রী যখন আটক ছিলেন, তখন আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছিলাম। তাতে মিলিটারি সরকার আমাদের কাজকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেছিল। এখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার যারা মানবাধিকার রক্ষার কথা বলে এসেছে, তাদের দিক থেকেও সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে করা একই ধরণের মন্তব্য দু:খজনক।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের ঘটনার বিচারের জন্য আটক জওয়ানদের কমপক্ষে ৪৭জন নিহত হয়েছে, যাদের ওপর নির্যাতনের তথ্য প্রমাণ সংগঠনটির কাছে রয়েছে।

এ ধরণের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংগঠনটি বিদ্রোহের বিচারকাজ স্থগিত করার পরামর্শও দিয়েছিল, যা সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আগেই প্রত্যাখান করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজকের (শুক্রবার) বিবৃতিতে ঐ সব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, তারা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং তারা মনে করেন, সরকারের উচিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমস্যাগুলোকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া ।

তিনি এমন মন্তব্যও করেন, কোন দল বিরোধী পক্ষে থাকলে মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্যের পক্ষে কথা বলে আর সরকারে এলে সে অবস্থান পাল্টে যায়। সেখানে আসলে সরকারকেই সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনেও গড়িয়েছে।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা হান্নান শাহ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্য সমর্থন করে সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে বিদ্র্রোহের ঘটনার পুন:তদন্ত চেয়েছেন।

এদিকে ঐ বিদ্রোহ এবং তাতে ৫৭জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের হত্যার ঘটনার যে বিচার চলছে, তার পক্ষে আইনগত বিভিন্ন যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।