বন্ধ হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল মণিহার

ছবির কপিরাইট bivash
Image caption মনিহার সিনেমা হলের এই ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্র শিল্পী বিভাস দত্ত

বাংলাদেশে আজ শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দেশটির অন্যতম একটি বড় সিনেমা হল, যশোরের মণিহার।

হলটির কর্তৃপক্ষ বলছে, চাঁদাবাজি ও মাস্তানির কারণে তাঁরা এই সিনেমা হলটি আর চালাতে পারছে না।

তবে পুলিশের দাবি, নিজেদের সমস্যার কারণেই এই সিনেমা হলটি বন্ধ করেছে মালিকরা।

চলচ্চিত্র শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, দেশটির বৃহত্তম সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়া এই শিল্পের জন্যে অনেকটা অশনি সংকেতের মতো।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর এই প্রথম বন্ধ হলো মণিহার। শুক্রবারই সিনেমা হলটির কর্তৃপক্ষ অনিদিষ্টকালের জন্যে সেটি বন্ধ করে দেন।

হলটির ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদাবাজি ও মাস্তানদের উপদ্রবের কারণে সিনেমা হলটি পরিচালনা করা তাদের জন্যে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ছিল।

‌‌তিনি বলেন, প্রথমে এসব মাস্তানরা আমাদের একজন কর্মকর্তার কাছে ছবি দেখার জন্যে আসে। তখন তাকে বলা হয় যে এতলোককে আমরা হলের ভিতরে ঢুকাতেও পারব না। তখন তারা তাকে মারধর করে।

মি. আহমেদ বলছেন, ‘এরপর ক্যাফে মনিহারের ম্যানেজারকেও মারধর করে। তখন তারা আমাকে বলে যে, এরপর আপনাকে আর আপনার মালিককেও পেটানো হবে। আমি মালিককে একথা জানানোর পর স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। কিন্তু পুলিশ কিছুই করেনি। পরে ঐ ছেলেরা আবার আমাদের হুমকি দেয়। এই অবস্থায় তো আমাদের হল বন্ধ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’

এরপর তারা বিষয়টি অন্যান্য সংস্থাগুলোকেও জানিয়েছিলেন। তারপরেও কোন কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাদেরকে সিনেমা হলটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

তবে যশোরের কোতয়ালী সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার নাইমুল ইসলাম বলছেন, পুলিশ সেখানে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। তিনি বলছেন, মাস্তানি নয়, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই, তাদের কিছু না জানিয়েই সিনেমা হলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

মি. ইসলাম জানান, এই সিনেমা হলের সাবেক একজন কর্মীকে কিছুদিন আগে চাকুরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকেই ঐ কর্মী নানারকম হুমকি দিচ্ছেন বলে হলটির মালিক এক সপ্তাহ আগে তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন। এরপর তারা সেখান পুলিশের একটি টিমকে পাহারার দায়িত্ব দেন।

তবে দেশের পুরনো ও সুপরিচিত এই সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে চলচিত্র শিল্পের জন্যে একটি হুমকি হিসাবেই দেখছেন চলচ্চিত্রকর্মীরা।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল বলছেন, গত এক বছরে বাংলাদেশে অসংখ্য সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। মণিহারের মতো একটি নামী সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া এই শিল্পের জন্যে এক প্রকার অশনি সংকেত।

মি. মোকাম্মেল বলেন, ‘আমাদের দেশে সাড়ে বারোশ সিনেমা হলের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিমাসেই বিভিন্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা হল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। নানা কারণে এটা হচ্ছে। এটা খুব চিন্তার একটি বিষয়, যা পুরো চলচিত্র শিল্পকেই একটি সংকটের মুখোমুখি করেছে। মণিহার সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে যাওয়া তার সর্বশেষ একটি উদাহরণ।’

মি. মোকাম্মেল বলছিলেন, মণিহারের মতো সিনেমা হল শুধুমাত্র বিনোদনের কেন্দ্রই নয়, সেটা সংস্কৃতিরও একটি কেন্দ্র। মণিহার সিনেমা হলটির সাথে ঐতিহ্যের একটি বিষয়ও রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র কয়েকজন মাস্তানের কারণে এটা বন্ধ হয়ে যাওয়া, পুরো জাতির জন্যেই লজ্জাজনক।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর