BBC navigation

বাংলাদেশে দুটি ট্রাইবুনালই পুনর্গঠন করা হচ্ছে

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 12 ডিসেম্বর, 2012 15:02 GMT 21:02 বাংলাদেশ সময়
bd warcrimes tribunal

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল

বাংলাদেশে বিতর্কের মুখে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত দুটি ট্রাইবুনালই পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, নতুন করে বিচার শুরুর তাদের দাবির ব্যাপারে তারা পুনর্গঠিত ট্রাইবুনালের কাছে আবেদন জানাবেন।

প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সাথে কথোপকথনের বিষয় ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনমিস্ট এবং বাংলাদেশে আমার দেশ পত্রিকা ফাস করার পর বিতর্কের পটভূমিতে মঙ্গলবার বিচারপতি নিজামুল হক পদত্যাগ করেছেন।

যখন ২০১০ সালে বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল, সেই ট্রাইবুনালেই সদস্য ছিলেন বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির ।

"আমরা আশা করি, আবার বিচার নতুন করে শুরু হবে। এটা সরকারের বিষয় নয়। এটা আসলে ট্রাইবুনালের বিষয়।"

আব্দুর রাজ্জাক, অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী

গত মার্চ মাসে দ্বিতীয় ট্রাইবুনাল গঠনের পর এই দ্বিতীয় ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল বিচারপতি কবিরকে।

এখন তাকে ট্রাইবুনাল-১ এর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে আর ট্রাইবুনাল-২ এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন ঐ ট্রাইবুনালেরই সদস্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

এছাড়া ট্রাইবুনাল-২ এ একজন সদস্যের পদ যে শূণ্য হচ্ছে, সেখানে নিয়োগ পাচ্ছেন হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া।

এই নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। তিনি বলেছেন, নিয়োগের এসব প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

"এমন দাবির কোন ভিত্তি নেই। এটা আইনসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য না।"

শফিক আহমেদ, আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী বলেছেন, দুটি ট্রাইবুনালই পুনর্গঠন করা হচ্ছে। যাদের প্রধান করা হচ্ছে, তারা আগে থেকেই ট্রাইবুনালের বিচারক ছিলেন। ফলে বিতর্কের অবকাশ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে নতুন করে বিচার শুরুর বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই দাবি নিয়ে জামায়াত এবং বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলছিলেন, ‘ আমরা আশা করি, আবার বিচার নতুন করে শুরু হবে। এটা সরকারের বিষয় নয়। এটা আসলে ট্রাইবুনালের বিষয়। আমরা ধরে নেই, ট্রাইবুনালের বিচারপতিরা স্বাধীন। তাদের কাছে আমরা আমাদের দাবির ব্যাপারে আবেদন জানাবো। আমাদের যুক্তি তুলে ধরবো।’

নতুন করে বিচার শুরুর এই দাবির ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যাখ্যাই তুলে দরা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেছেন, ‘এমন দাবির কোন ভিত্তি নেই। এটা আইনসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য না। কারণ আইনেই বলা আছে, যে কোন স্তরে বা পর্যায়ে এসে ট্রাইবুনালের কোন বিচারক যদি ইস্তফা দেয় বা শূণ্যতা সৃষ্টি হয়, তখন নতুন বিচারক এলে একই পর্যায় থেকে বিচার কার্যক্রম চলবে।’

বিচারপতি নিজামুল হকে পদত্যাগের পরদিন বুধবার বাকি দু’জন বিচারপতি এজলাসে বসেছিলেন।

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযম এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরির মামলায় দু’টি বিষয়ে আগের নির্ধারিত শুনানী ঐ দু’জন বিচারক মুলতবি করেন।

তবে আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইবুনালের কাঠামোগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻