BBC navigation

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আজ প্রথম রায়

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 21 জানুয়ারি, 2013 02:24 GMT 08:24 বাংলাদেশ সময়

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আজ প্রথম রায়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলার বিচার শেষে আজ প্রথম রায় ঘোষণা করা হবে। স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন সাবেক সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একজন কর্মকর্তা।

আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে এসব অপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয় ২০১১ সালের ১০ এপ্রিল। গত বছরের মার্চে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন করে।

ট্রাইব্যুনাল আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও, এর আগেই পালিয়ে যান তিনি।

জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাঁকে সাত দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে বলা হয়। তিনি হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য শুরু করেন। তবে এর মাঝে ট্রাইব্যুনাল মি.আযাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেন।

গত বছরের নভেম্বরে মি. আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের দাবীতে আন্দোলন করে আসছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠনের প্রধান শাহরিয়ার কবির রায়ের প্রাক্কালে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, একচল্লিশ বছর ধরে ত্রিশ লক্ষ শহীদের পরিবার এই বিচারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এটি গণহত্যার বিচার, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার। রায় যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যারা প্রথমবারের মতো তাদের নিজেদের আইনে, দেশীয় আইনে কতগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করছে, রায় প্রমাণের ভিতর দিয়ে প্রমাণ হবে যে আমরাই এই বিচার করতে পারি। সেদিন দিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।

তিনি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে কয়েকশত গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু খুব সামান্যই বিচার হয়েছে। গণহত্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে।‌’

বিচারে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট আট ধরণের অভিযোগ আনা হয়।

"সারা পৃথিবীতে কয়েকশত গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু খুব সামান্যই বিচার হয়েছে। গণহত্যার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে"

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি প্রধান শাহরিয়ার কবির

সেখানে বলা হয়েছে, যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র মি. আযাদ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংঘের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ চলার সময় তিনি ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতা বিরোধী অপরাধ ঘটান। যার মধ্যে রয়েছে জোর করে ধর্মান্তরিত করা, দেশত্যাগে বাধ্য করা, লুট, ধর্ষণ, হত্যা, গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতা বিরোধী অভিযোগ।

ঐ সময়ে মি. আযাদ ফরিদপুর শহরের রণজিৎ নাথ, আবু ইউসুফ পাখিসহ কয়েকজনকে আটক এবং নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া রাজাকারদের নিয়ে সালথা থানার মাধবচন্দ্র বিশ্বাস, চিত্তরঞ্জন দাসের বাড়িতে হত্যা ও লুটপাট, কয়েকজন হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, বোয়ালমারীর হাসামদিয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে মি.আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

ইতিমধ্যে স্কাইপ কথোপকথনের জের ধরে ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল একটি চিঠিতে জামায়াতে ইসলামীর আরেকজন সাবেক নেতা, গোলাম আযমের ফাঁসি না দেয়ার অনুরোধ করেছেন।

এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দেশে বিদেশেই বিতর্ক, সমালোচনা, লেখালেখি হয়েছে । বিচার প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করার জন্যও সরকারের উপর চাপ দেয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে যাদের বিচার হচ্ছে, তারা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের নেতা বা সাবেক নেতা। যাদের বেশিরভাগই এখন কারাগারে। ফলে এই প্রথম বিচারের দিনে সংঘর্ষের কিছুটা আশংকা করছে নিরাপত্তা বাহিনী। এজন্যে তারা প্রস্তুতিও নিয়েছে।

ঢাকার পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের বাইরে, যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন ।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻